,

মরিয়মের মৃত্যু ঘিরে জিজ্ঞাসাবাদে ওবায়দুর, চার দিনের রিমান্ড

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় তাঁর মামা ওবায়দুর রহমানকে চার দিনের রিমান্ডে নিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেনের আদালত তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

এর আগে ২৮ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির তেজগাঁও জোনাল টিমের পরিদর্শক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন ওবায়দুরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। সেই আবেদনের শুনানি বৃহস্পতিবার নির্ধারিত ছিল। এদিন কারাগার থেকে ওবায়দুরকে আদালতে হাজির করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষ রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি দেয়, আর আসামিপক্ষ রিমান্ড বাতিলের পাশাপাশি জামিনের আবেদন করে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা আদালতে বলেন, মরিয়মের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের সম্পর্ক, তাঁদের কথিত বিয়ে এবং এ-সংক্রান্ত বিভিন্ন ঘটনার বিষয়ে ওবায়দুর অবগত ছিলেন। মরিয়মের মৃত্যু আত্মহত্যা, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো ঘটনা রয়েছে—তদন্তে তা পরিষ্কার করতে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। একই সঙ্গে আত্মহত্যায় প্ররোচনা, উসকানি, মানসিক চাপ, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা অন্য কোনোভাবে সহায়তার ক্ষেত্রে কারও ভূমিকা ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

অন্যদিকে ওবায়দুরের আইনজীবী গোলাম সাবের চৌধুরী রিমান্ডের বিরোধিতা করেন। তাঁর বক্তব্য, মামলায় ওবায়দুরের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার সুনির্দিষ্ট কোনো ভূমিকার কথা নেই। গাজী নজরুল ও মরিয়মের সম্পর্কের বিষয়ে ওবায়দুর আপত্তি জানিয়েছিলেন বলেও তিনি দাবি করেন। বিয়েতে কারও সাক্ষী থাকা এবং আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে জড়িত থাকা এক বিষয় নয়—এ যুক্তিতে রিমান্ড বাতিল ও জামিন চাওয়া হয়। দুই পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

যেভাবে শুরু হয় ঘটনা

গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তাঁর বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, চলতি বছরের জুনে গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে মরিয়মের ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী বিয়ে হয়। এরপর মরিয়ম গাজী নজরুল ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদার সঙ্গে ন্যাম ভবনের ওই বাসায় বসবাস করতেন। এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, বিয়ের পর থেকে মরিয়মকে বিভিন্ন বিষয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো এবং তিনি বিভিন্ন সময় পরিবারের সদস্যদের কাছে এসব বিষয় জানাতেন।

এজাহারে বলা হয়, ২০ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে গাজী নজরুল মরিয়মের বাবাকে দ্রুত বাসায় আসতে বলেন। সেখানে গিয়ে তিনি অনেক লোকজন দেখতে পান। পরে পুলিশের সহায়তায় একটি কক্ষের দরজা খুলে মরিয়মকে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ঝুলতে দেখা যায়। বিছানার ওপর একটি লেখা পাওয়া যায় বলেও মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ওই লেখা মরিয়মেরই কি না, তা ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করার কথা জানিয়েছিল পুলিশ।

তদন্তে একাধিক বিষয় খতিয়ে দেখছে ডিবি

মামলা হওয়ার পর গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে পুলিশ হেফাজতে নেয়। পরদিন আদালত গাজী নজরুলের চার দিনের এবং মাকছুদার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পরে মামলার তদন্তভার গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

মাকছুদার রিমান্ড শেষে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হলেও পরবর্তী সময়ে মামলার বাদী আদালতে আপস-মীমাংসার কথা জানিয়ে তাঁর জামিনে আপত্তি নেই বলে উল্লেখ করেন। এরপর আদালত মাকছুদার জামিন মঞ্জুর করেন। গাজী নজরুলের ক্ষেত্রে জামিনের বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্ত আলাদা ছিল বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে ওবায়দুরকে ২৩ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তারের পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। পরে তদন্তের স্বার্থে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড চাওয়া হয়। আদালতের সর্বশেষ আদেশ অনুযায়ী, এখন চার দিন ডিবির হেফাজতে তাঁর জিজ্ঞাসাবাদ চলবে।

তদন্তে মরিয়মের সঙ্গে গাজী নজরুলের সম্পর্কের সূত্রপাত, তাঁদের বিয়ের প্রেক্ষাপট, মৃত্যুর আগে তাঁর সঙ্গে কারা যোগাযোগ করেছিলেন এবং মৃত্যুর ঘটনায় আসামিদের প্রত্যেকের ভূমিকা কী ছিল—এসব বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে আদালতে উত্থাপিত অভিযোগ ও তদন্তের প্রাথমিক বক্তব্য এখনো চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত নয়। মামলার তদন্ত এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়াতেই অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারিত হবে।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।