খুলনায় অভিযান চালিয়ে একটি পিস্তল, চার রাউন্ড গুলি, তিনটি বোমাসদৃশ ককটেল ও একটি মোটরসাইকেলসহ তিন যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) লবণচরা থানা এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন লবণচরা থানার মাথাভাঙ্গা জুট মিলসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা কিসলু হাওলাদারের ছেলে মো. আল আমিন (২৩), রূপসা উপজেলার রায়পাড়া এলাকার আ. রহিম মোল্লার ছেলে মো. রনি মোল্লা ওরফে কসাই রনি (২৮) এবং লবণচরা থানার ডাক্তার গলি এলাকার বাসিন্দা রাজু জোমাদ্দারের ছেলে স্বরন জোমাদ্দার ওরফে সজল জোমাদ্দার (২৬)।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটের দিকে রূপসা ব্রিজের উত্তর পাশে জালাল আহমেদের তুষ-কুড়া মিলের সামনে একটি ফাঁকা জায়গায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তিন যুবক মোটরসাইকেলে করে দ্রুত সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তাঁদের মাথায় হেলমেট ছিল এবং মুখ গামছা ও মুখোশ দিয়ে ঢাকা ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। পরে পুলিশ তাদের আটক করে তল্লাশি চালায়।
তল্লাশির সময় তাঁদের কাছ থেকে একটি পিস্তল, চার রাউন্ড গুলি এবং তিনটি বোমাসদৃশ ককটেল উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। এ ছাড়া তাঁদের ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেলও জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, রূপসা ব্রিজের উত্তর পাশে ব্যক্তি মালিকানাধীন একটি সিমেন্ট আনলোডের ঘাট রয়েছে। ঘাটটির মালিক ইউনুস আলীকে স্থানীয় কয়েকটি অপরাধী চক্রের সদস্য পরিচয়ে বিভিন্ন সময়ে চাঁদা দাবি এবং ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ বলছে, ‘বি-কম্পানি’ ও ‘নুর আজিম বাহিনী’ নামে পরিচিত দুটি গ্রুপের সদস্য পরিচয়ে এমন চাপ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এ ধরনের অভিযোগের পর মঙ্গলবার ঘাটটির সিমেন্ট আনলোডের কাজ বন্ধ ছিল। বিষয়টি জানার পর এবং এলাকায় অপরাধমূলক তৎপরতার আশঙ্কায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
লবণচরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মোশাররফ হোসেন বলেন, অভিযানে তিনজনকে আটক করা হয়েছে এবং তাঁদের কাছ থেকে অস্ত্র, গুলি ও ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
অস্ত্র ও বিস্ফোরকসদৃশ বস্তু উদ্ধারের ঘটনায় পুলিশের তদন্তে এখন গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের ভূমিকা, এসব সামগ্রী কোথা থেকে এসেছে এবং এগুলো কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের পরিকল্পনা ছিল কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হবে। একই সঙ্গে ঘাট মালিককে ভয়ভীতি দেখানো ও চাঁদা দাবির অভিযোগের সঙ্গে তাঁদের সম্পৃক্ততার বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আসবে।
পুলিশের দাবি অনুযায়ী, গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে আগেও একাধিক মামলা রয়েছে। তবে এসব মামলার ধরন বা বর্তমান মামলাগুলোর বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি। উদ্ধার করা অস্ত্র, গুলি ও ককটেল আইনানুগ প্রক্রিয়ায় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর মামলার তদন্তে সেগুলোর ব্যবহার ও সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
ঘটনার পর রূপসা ব্রিজসংলগ্ন ওই এলাকায় নিরাপত্তা ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে পুলিশের তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। গ্রেপ্তার তিনজনকে আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় নেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে।









