বাংলাদেশি টাকার বিপরীতে ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বিভিন্ন বৈদেশিক মুদ্রার নির্ধারিত বিনিময় হার প্রকাশ করা হয়েছে। আজকের তালিকায় মার্কিন ডলার, ব্রিটিশ পাউন্ড, ইউরো, ভারতীয় রুপি, অস্ট্রেলিয়ান ডলার, সিঙ্গাপুর ডলার, চীনা ইউয়ান ও জাপানি ইয়েন রয়েছে। বিদেশে ভ্রমণ, পড়াশোনা, চিকিৎসা, ব্যবসা কিংবা বৈদেশিক লেনদেনের প্রয়োজন রয়েছে—এমন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রতিদিনের মুদ্রার দর গুরুত্বপূর্ণ।
প্রকাশিত হিসাবে, আজ মার্কিন ডলারের প্রতি ইউনিটের ক্রয়মূল্য ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা এবং বিক্রয়মূল্য ১২২ টাকা ৮৫ পয়সা। অর্থাৎ ডলার বিক্রি করলে প্রতি ইউনিটে ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা এবং কিনতে গেলে ১২২ টাকা ৮৫ পয়সা হিসাবে দাম ধরা হচ্ছে। বৈদেশিক মুদ্রার ক্ষেত্রে ক্রয় ও বিক্রয়মূল্যের এই পার্থক্যকে সাধারণভাবে লেনদেনের ব্যবধান হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
ব্রিটিশ পাউন্ডের দামও তুলনামূলকভাবে বেশি। আজ প্রতি পাউন্ডের ক্রয়মূল্য ১৬২ টাকা ৬৭ পয়সা এবং বিক্রয়মূল্য ১৬২ টাকা ৮৭ পয়সা। ইউরোর ক্ষেত্রে প্রতি ইউনিটের ক্রয়মূল্য ১৩৯ টাকা ৫৭ পয়সা এবং বিক্রয়মূল্য ১৩৯ টাকা ৭১ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এদিকে ভারতীয় রুপির প্রতি ইউনিটের ক্রয় ও বিক্রয়মূল্য উভয়ই ১ টাকা ২৮ পয়সা। অস্ট্রেলিয়ান ডলারের ক্রয়মূল্য ৮৬ টাকা ১০ পয়সা এবং বিক্রয়মূল্য ৮৬ টাকা ২৪ পয়সা। সিঙ্গাপুর ডলারের ক্ষেত্রে প্রতি ইউনিটের ক্রয়মূল্য ৯৬ টাকা ৯ পয়সা এবং বিক্রয়মূল্য ৯৬ টাকা ২২ পয়সা।
চীনা ইউয়ানের দাম আজ প্রতি ইউনিটে ১৮ টাকা ২৯ পয়সা ক্রয় এবং ১৮ টাকা ৩০ পয়সা বিক্রয়। জাপানি ইয়েনের ক্ষেত্রে প্রতি ইউনিটের ক্রয় ও বিক্রয়মূল্য উভয়ই ৭৮ পয়সা।
আজকের মুদ্রার দরগুলো সংক্ষেপে হলো—
| মুদ্রা | ক্রয়মূল্য | বিক্রয়মূল্য |
|---|---|---|
| মার্কিন ডলার | ১২২.৭৫ টাকা | ১২২.৮৫ টাকা |
| ব্রিটিশ পাউন্ড | ১৬২.৬৭ টাকা | ১৬২.৮৭ টাকা |
| ইউরো | ১৩৯.৫৭ টাকা | ১৩৯.৭১ টাকা |
| ভারতীয় রুপি | ১.২৮ টাকা | ১.২৮ টাকা |
| অস্ট্রেলিয়ান ডলার | ৮৬.১০ টাকা | ৮৬.২৪ টাকা |
| সিঙ্গাপুর ডলার | ৯৬.০৯ টাকা | ৯৬.২২ টাকা |
| চীনা ইউয়ান | ১৮.২৯ টাকা | ১৮.৩০ টাকা |
| জাপানি ইয়েন | ০.৭৮ টাকা | ০.৭৮ টাকা |
বৈদেশিক মুদ্রার দর প্রতিদিন একই থাকে না। আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি, মুদ্রার চাহিদা ও সরবরাহ, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম এবং অন্যান্য অর্থনৈতিক কারণে বিনিময় হারে পরিবর্তন আসতে পারে। তাই এক দিনের প্রকাশিত দর পরবর্তী দিনে অপরিবর্তিত থাকবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।
মুদ্রা কেনার ক্ষেত্রে বিক্রয়মূল্য এবং মুদ্রা বিক্রি করে বাংলাদেশি টাকা নেওয়ার ক্ষেত্রে ক্রয়মূল্য প্রাসঙ্গিক। যেমন, কেউ বিদেশে যাওয়ার আগে ডলার কিনতে চাইলে তাকে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিক্রয়মূল্য অনুযায়ী অর্থ পরিশোধ করতে হবে। আবার হাতে থাকা ডলার বিক্রি করে টাকা নিতে চাইলে প্রযোজ্য হবে ক্রয়মূল্য।
এ কারণে বিদেশে ভ্রমণ বা পড়াশোনার জন্য অর্থের হিসাব করার সময় শুধু একটি মুদ্রার ঘোষিত মূল্য দেখলেই যথেষ্ট নয়। কত ইউনিট মুদ্রা প্রয়োজন এবং সেটি কেনার সময় কোন হার কার্যকর থাকবে—দুই বিষয়ই বিবেচনায় রাখা জরুরি। একইভাবে আমদানি-রপ্তানি বা বড় অঙ্কের বৈদেশিক লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রকৃত লেনদেনের হার জানা প্রয়োজন।
প্রকাশিত বিনিময় হারকে তাই দিনের একটি নির্দেশক হার হিসেবে দেখা যেতে পারে। বড় অঙ্কের লেনদেনের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা অনুমোদিত মুদ্রা বিনিময় প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সর্বশেষ কার্যকর হার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এতে ঘোষিত হার ও বাস্তবে প্রযোজ্য হারের মধ্যে সম্ভাব্য পার্থক্য সম্পর্কে আগেই ধারণা পাওয়া যাবে এবং লেনদেনের সময় অনাকাঙ্ক্ষিত হিসাবের ঝুঁকিও কমবে।









