ফরিদপুরে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৫০ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। এ সময়ে হামজনিত কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সোমবারের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ১৪ জন এবং ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩৬ জন নতুন হাম রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে দুই হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা শেষে ৫২ জন রোগী সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন। ফলে নতুন শনাক্ত রোগীর তুলনায় ছাড়পত্র পাওয়া রোগীর সংখ্যা কিছুটা বেশি হলেও দুই হাসপাতালে এখনও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য বলছে, বর্তমানে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ২৫ জন এবং ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৮৩ জন হাম রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। দুই হাসপাতাল মিলিয়ে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা ১০৮ জন।
গত কয়েক মাসে জেলায় হাম আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে রয়েছে। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ফরিদপুরে মোট ৬ হাজার ১৯১ জন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। একই সময়ে হামজনিত কারণে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। অর্থাৎ বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে, যদিও সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় কোনো মৃত্যুর তথ্য নেই।
সর্বশেষ প্রতিবেদনের আরেকটি দিক হলো, নতুন ভর্তি হওয়া রোগীদের সবাই ফরিদপুর জেলার বাসিন্দা নন। ৫০ জনের মধ্যে ৩৬ জন ফরিদপুর জেলার এবং ১৪ জন অন্য জেলার বাসিন্দা। এতে বোঝা যায়, ফরিদপুরের হাসপাতালগুলোতে জেলার বাইরের রোগীরাও হাম চিকিৎসার জন্য আসছেন।
দুই হাসপাতালে নতুন রোগী ভর্তি এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার এই ধারাবাহিকতা স্বাস্থ্যসেবার ওপর চাপের একটি চিত্র তুলে ধরছে। একদিকে প্রতিদিন নতুন রোগী হাসপাতালে আসছেন, অন্যদিকে চিকিৎসা শেষে অনেকেই সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পাচ্ছেন। বর্তমানে ১০৮ জন রোগী হাসপাতালে থাকায় চিকিৎসকদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকর্মীদেরও নিয়মিত সেবা দিতে হচ্ছে।
হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। সাধারণত জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হওয়া এবং পরে শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দেওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। শিশুদের মধ্যে এ রোগের ঝুঁকি বেশি হলেও বয়সভেদে অন্যরাও আক্রান্ত হতে পারেন। আক্রান্ত ব্যক্তির কাছাকাছি অবস্থান করলে সংক্রমণের আশঙ্কা বাড়ে।
ফরিদপুরে চলতি বছরের আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বিবেচনায় নিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। হাসপাতালগুলোতে নতুন রোগী শনাক্ত, ভর্তি, চিকিৎসা এবং ছাড়পত্রের তথ্য নিয়মিতভাবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে আক্রান্তের সংখ্যা ও মৃত্যুর পরিস্থিতিও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
সোমবারের প্রতিবেদনে নতুন করে ৫০ জন আক্রান্তের তথ্য থাকলেও গত ২৪ ঘণ্টায় কোনো মৃত্যু না হওয়াকে সাম্প্রতিক পরিস্থিতির একটি স্বস্তিদায়ক দিক হিসেবে দেখা যাচ্ছে। তবে বছরের শুরু থেকে জেলায় ৬ হাজারের বেশি রোগী শনাক্ত এবং ২১ জনের মৃত্যুর তথ্য থাকায় হাম নিয়ন্ত্রণে সতর্কতা ও চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রয়োজন রয়েছে।








