পাবনার ফরিদপুর উপজেলার প্রত্যন্ত কুচলিয়া গ্রামে একটি বড় বটগাছের নিচে লুকিয়ে রাখা বস্তা থেকে ১৫ রাউন্ড চায়না রাইফেলের তাজা গুলি ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। এলাকায় সশস্ত্র কয়েকটি গোষ্ঠীর তৎপরতা এবং অতীতে সংঘটিত গোলাগুলি, হত্যা ও গুমের ঘটনার প্রেক্ষাপটে এই অভিযান চালানো হয়।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার হাদল ইউনিয়নের বিল অধ্যুষিত কুচলিয়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে এসব অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করে ফরিদপুর থানা পুলিশ। পরদিন সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান ফরিদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুরুল হাসান মাসুদ।
পুলিশ জানায়, কুচলিয়া ও আশপাশের প্রত্যন্ত বিল এলাকায় সর্বহারা-নকশালপন্থি একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা নিয়ে আগে থেকেই তথ্য ছিল। ওই এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, গোলাগুলি এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগও রয়েছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানের একপর্যায়ে একটি বড় বটগাছের নিচে সন্দেহজনকভাবে লুকিয়ে রাখা একটি বস্তার সন্ধান পাওয়া যায়। বস্তাটি তল্লাশি করে চায়না রাইফেলের ১৫ রাউন্ড তাজা গুলি, একটি চাপাতি, একটি বাট, একটি ছুরি এবং বিভিন্ন আকারের তিনটি ধারালো দা উদ্ধার করা হয়।
ওসি মঞ্জুরুল হাসান মাসুদ বলেন, বিল ও জলাশয়ঘেরা প্রত্যন্ত হওয়ায় হাদল ইউনিয়নের কিছু এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সশস্ত্র কয়েকটি গ্রুপের তৎপরতার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব গ্রুপ সাধারণ মানুষকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে খাল-বিল ও জলাশয় দখল, ভূমি দখল, চাঁদাবাজি, লুটতরাজ, চুরি ও ছিনতাইসহ নানা অপরাধে জড়িত।
তিনি আরও জানান, হাদল এলাকায় অতীতেও কয়েক দফা গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি ওই অঞ্চলে একাধিক হত্যা ও গুমের ঘটনাও ঘটেছে বলে পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে। এসব ঘটনায় ফরিদপুর থানায় অস্ত্র ও হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলা চলমান রয়েছে।
পুলিশের ধারণা, উদ্ধার হওয়া গুলি ও ধারালো অস্ত্রগুলো ওই এলাকার সশস্ত্র অপরাধী গোষ্ঠীর তৎপরতার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তবে অস্ত্র ও গুলিগুলোর মালিকানা এবং এগুলো সেখানে কীভাবে রাখা হয়েছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রত্যন্ত বিলাঞ্চলে পুলিশের নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন ওসি। তিনি বলেন, স্থানীয় পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে পুলিশ নিয়মিত তৎপরতা চালাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে সম্প্রতি ওই এলাকায় একটি নৌকাবাইচও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে উপপরিদর্শক (এসআই) আরিফুল ইসলাম, আশরাফুল ইসলামসহ থানার অন্যান্য পুলিশ সদস্য উপস্থিত ছিলেন। উদ্ধার করা গুলি ও অস্ত্রের বিষয়ে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্টদের শনাক্তে পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।









