রাজধানীর আদাবরের শ্যামলী হাউজিং এলাকায় একটি আটতলা বাড়ি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, শনিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে রামদা, চাপাতি ও পিস্তলসহ ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল বাড়িটির সামনে এসে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এ সময় তারা বাড়ির মূল ফটক খুলে দিতে বলে এবং বাসিন্দাদের বের হয়ে যেতে হুমকি দেয়। একপর্যায়ে চাপাতি ও রামদা দিয়ে ফটকে কোপানোর পাশাপাশি সিসিটিভি ক্যামেরা ও জানালার কাচ ভাঙচুর করা হয়।
বাড়িটির মালিক ব্যবসায়ী আমিনুর রহমান। তাঁর ভাতিজা মনির হোসেনের ভাষ্য, হামলাকারীরা প্রথমে কিছুক্ষণ বাড়িটির আশপাশে অবস্থান করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে। পরে চারজন মূল ফটকের সামনে এগিয়ে আসে। তাঁদের মধ্যে দুজনের হাতে চাপাতি এবং একজনের হাতে রামদা ছিল। ফটক থেকে কিছুটা দূরে পিস্তল হাতে আরেক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে ছিলেন। তিনিই হামলাকারীদের নির্দেশনা দিচ্ছিলেন বলে অভিযোগ করেন মনির।
মনির হোসেনের বর্ণনা অনুযায়ী, হামলাকারীরা প্রথমে গেট খুলে দিতে বলে এবং বাড়ির ভেতরে থাকা সবাইকে বেরিয়ে যেতে নির্দেশ দেয়। বাসিন্দারা বের না হওয়ায় তারা টাকা দাবি করে হুমকি দিতে থাকে। এ সময় ‘টাকা দে, বাসায় থাকিস, টাকা দিস না’—এ ধরনের কথা বলে মূল ফটকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো শুরু করা হয়।
ভাঙচুরের সময় বাড়ির প্রবেশপথে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরা ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়। জানালার কাচও ভাঙা হয়। হামলাকারীরা ইটের টুকরা ছুড়ে বাড়িটির দ্বিতীয় তলার আরও দুটি জানালার কাচ ভেঙে দেয় বলে অভিযোগ পরিবারের। তবে মূল ফটক দিয়ে বাড়ির ভেতরে ঢুকতে না পেরে প্রায় পাঁচ মিনিটের মধ্যে তারা ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যায়।
মনির হোসেন বলেন, হামলার সময়ই তিনি জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে বিষয়টি জানান। তাঁর অভিযোগ, খবর দেওয়ার পরও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় প্রায় তিন ঘণ্টা পরে, সকাল পৌনে ১০টার দিকে। তাঁর দাবি, পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে এলে হামলাকারীদের আটক করা সম্ভব হতে পারত।
ঘটনার পর আদাবর থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে জানান মনির হোসেন। তবে অভিযোগের ভিত্তিতে এখন পর্যন্ত কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে তাঁরা নিশ্চিত নন।
এ ঘটনার পর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। মনির হোসেন বলেন, তাঁরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং ভয় থাকায় স্বাভাবিকভাবে বাড়ির বাইরে বের হতেও পারছেন না। তাঁর আশঙ্কা, আবারও হামলা বা বাড়ি দখলের চেষ্টা হতে পারে।
আদাবর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঘটনার পর পুলিশ বাড়িটি পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে কোনো অগ্রগতি হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি খোঁজ নিয়ে জানানোর কথা বলেন।
তবে এই বাড়ি নিয়ে বিরোধের ঘটনা নতুন নয় বলে দাবি পরিবারের। মনির হোসেনের ভাষ্য, ২০২৪ সালের ১৭ আগস্ট খোরশেদ আলম নামের এক ব্যক্তি বাড়িটি দখল করেছিলেন। পরে তাঁরা আদাবর থানায় অভিযোগ করেন। তাতে সমাধান না হওয়ায় একপর্যায়ে আদালতের আশ্রয় নেন তাঁরা। আদালত আদাবর থানাকে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেন। পরবর্তী সময়ে মামলাটির তদন্তভার পায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
মনির হোসেন জানান, পিবিআই প্রায় চার মাস তদন্ত করার পর একটি অভিযোগপত্র দেয়। তবে সেই অভিযোগপত্রে কী ধরনের তথ্য বা সুপারিশ রয়েছে, তা তাঁরা জানেন না। তাঁর দাবি, গত ১২ মার্চ তাঁরা বাড়িটির দখল ফিরে পান। এরপর আবারও বাড়িটিতে হামলা ও দখলের চেষ্টা তাঁদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
পরিবারটির অভিযোগ, বাড়ির মালিকানা ও দখল নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের মধ্যেই নতুন করে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। এখন তাঁদের প্রধান উদ্বেগ নিরাপত্তা। বাড়িটির বাসিন্দারা চান, হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে, সে জন্য কার্যকর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে। হামলাকারীদের পরিচয়, হামলার উদ্দেশ্য এবং বাড়ি দখলের অভিযোগের সঙ্গে ঘটনার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না—তদন্তের মাধ্যমে এসব বিষয় স্পষ্ট হওয়ার কথা।









