সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিও রেকর্ডকে কেন্দ্র করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল হাসানকে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাজারবাগ পুলিশ লাইন থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তাকে আদালতে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।
এর আগে ভাইরাল অডিওকে কেন্দ্র করে গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাকিবুল হাসানকে ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসির দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়। ডিএমপি কমিশনারের সই করা এক অফিস আদেশে তাকে সদরদপ্তর ও প্রশাসন বিভাগের কেন্দ্রীয় সংরক্ষণ দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছিল। ওই আদেশের পর তিনি আর ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেননি।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাকিবুল হাসানের কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ড ছড়িয়ে পড়ে। ভাইরাল হওয়া ওই রেকর্ডে ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রসঙ্গ নিয়ে কথোপকথন শোনা যায় বলে দাবি করা হয়।
অডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা তৈরি হয়। এর মধ্যেই রাকিবুল হাসান নিজের ফেসবুক পোস্টে অডিওটির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি দাবি করেন, ভাইরাল হওয়া রেকর্ডটি প্রকৃত কথোপকথন নয়; কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে এটি তৈরি করা হয়েছে।
তবে তার ওই দাবি সত্ত্বেও অডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। প্রথমে তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে প্রশাসনিক দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। পরে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হলো।
রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় গ্রেপ্তারের পর এখন অডিওটির উৎস, এর সত্যতা এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্তের আওতায় আসতে পারে। বিশেষ করে অডিওটি আসল নাকি কৃত্রিমভাবে তৈরি—এটি তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে। পাশাপাশি রেকর্ডটি কীভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে এবং এর পেছনে কারা জড়িত, সেটিও তদন্তের অংশ হতে পারে।
গ্রেপ্তারের পর রাকিবুল হাসানকে আদালতে হাজির করা হলে মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে। আদালতে তাকে কী ধরনের আবেদন করা হয় এবং আদালত কী সিদ্ধান্ত দেন, তার ওপর পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ভর করবে।









