হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে ছয় বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের দায়ে দুই তরুণকে তিন বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি তাদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। বয়স বিবেচনায় নিয়ে আদালত এই রায় ঘোষণা করেন।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুরে হবিগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩-এর বিচারক সৈয়দা মিনহাজ উম মুনীরা এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন নবীগঞ্জ উপজেলার শ্রীমতপুর গ্রামের এলাই মিয়ার ছেলে রাজিব মিয়া (১৭) এবং একই গ্রামের শেখ ফরিদ মিয়ার ছেলে শেখ জামাল (১৮)। রায় ঘোষণার সময় উভয় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২৫ সালের ১৭ আগস্ট বিকেলে। স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় পড়াশোনা শেষে বাড়ি ফেরার পথে ওই শিশুকে নানাভাবে ফুসলিয়ে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান শেখ জামাল। পরে সেখানে জামাল ও রাজিব মিলে শিশুটিকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। ঘটনার পর শিশুটির অবস্থা অবনতি হলে পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। এই অমানবিক ঘটনার পরদিন ভুক্তভোগী শিশুর মা বাদী হয়ে নবীগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দুইজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনা করে পুলিশ পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত চালায়। তদন্ত শেষে নবীগঞ্জ থানার তৎকালীন পরিদর্শক (তদন্ত) দুলাল মিয়া চলতি বছরের ৩০ মার্চ দুই আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ও বিচারকাজ চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে মোট ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। সাক্ষীদের সাক্ষ্য এবং প্রাপ্ত প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত আজ এই রায় প্রদান করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) কামাল উদ্দিন আহমেদ সেলিম রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত সাজার বিধান রয়েছে। তবে আসামিদের বয়স কম এবং একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় আদালত তাদের বয়স ও ভবিষ্যৎ বিবেচনায় নিয়ে তিন বছর করে কারাদণ্ডের আদেশ দেন। সমাজ সচেতন মহল মনে করছে, এ ধরনের অপরাধের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হলে ভবিষ্যতে অপরাধ প্রবণতা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে।









