মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় পরিত্যক্ত একটি কারখানায় অভিযান চালিয়ে ঘোড়া জবাই করে মাংস প্যাকেটজাত করার অপরাধে নয়জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অভিযোগের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার জাগীর পাট গবেষণা এলাকার হাসান অ্যান্ড ব্রাদার্সের একটি পরিত্যক্ত কারখানায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিক্তা খাতুন। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. মনির হোসেন এবং একদল পুলিশ সদস্য। ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযোগের সত্যতা পান তারা। তল্লাশিতে দেখা যায়, সেখানে ১৩টি ঘোড়া ইতোমধ্যে জবাই করা হয়েছে এবং জীবিত রয়েছে আরও একটি ঘোড়া। অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে দড়িতে ঝুলিয়ে এসব প্রাণী হত্যা করা হচ্ছিল, যা পশুর প্রতি চরম অমানবিকতার বহিঃপ্রকাশ।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা স্বীকার করেছেন যে, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত যেমন ঢাকা, গাজীপুর ও জামালপুর থেকে এসব ঘোড়া সংগ্রহ করা হয়েছিল। জবাই করার পর মাংসগুলো সুনিপুণভাবে প্যাকেটজাত করে বিভিন্ন এলাকার বাজারে সরবরাহের পাঁয়তারা চলছিল। পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১১-এর ৪ ধারা লঙ্ঘিত হওয়ায় ২৪ ধারায় অপরাধীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত নয়জন আসামির প্রত্যেককে সাজা প্রদান করেন। এর মধ্যে পুরো চক্রটিকে একত্রিত করে এই অবৈধ কার্যক্রমের মূল সমন্বয় করার দায়ে মো. মিজানুর রহমান নামের একজনকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বাকি আটজন সহযোগীকে ছয় মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত অন্য আটজন হলেন রুবেল, সোহেল রানা, ইমন হাসান, মো. তুহিন, ইব্রাহীম খলিল, মাসুদ রানা, হুমায়ুন কবির ও মারুফ।
অভিযানের নেতৃত্বদানকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিক্তা খাতুন গণমাধ্যমকে জানান, ঘোড়া জবাই করে তা বাজারে ছড়িয়ে দেওয়ার এই পরিকল্পনা অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে পশুর সঙ্গে এমন নিষ্ঠুর আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এদিকে সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. মনির হোসেন বলেন, ঘোড়ার মাংস খাওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না এবং প্রক্রিয়াজাত করা এই মাংস ঠিক কোথায় সরবরাহের পরিকল্পনা ছিল, সে বিষয়ে গভীর তদন্ত চলছে।









