প্রায় এক দশক ধরে বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনে একক অডিও অ্যালবাম প্রকাশের চর্চা অনেকটাই কমে এসেছে। একসময় শিল্পীদের ক্যারিয়ারে একক অ্যালবাম ছিল গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। তবে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, একক গান প্রকাশের প্রবণতা এবং শ্রোতাদের গান শোনার অভ্যাসে পরিবর্তনের কারণে সেই ধারায় ভাটা পড়ে। এমন এক সময়ে পুরোনো সেই ধারাকে নতুন করে সামনে আনার উদ্যোগ নিয়েছে ধ্রুব মিউজিক স্টেশন (ডিএমএস)। প্রতিষ্ঠানটির ব্যানারে কণ্ঠশিল্পী কাজী শুভর নতুন একক ডিজিটাল অ্যালবাম ‘কেউ বুঝল না’ প্রকাশিত হতে যাচ্ছে ২৮ সেপ্টেম্বর।
অ্যালবামটিতে থাকছে মোট নয়টি গান। ভিন্ন ভিন্ন আবহ ও বিষয়বস্তুর গান দিয়ে সাজানো হয়েছে পুরো আয়োজনটি। গানগুলোর কথা লিখেছেন তরুণ মুন্সী, প্রয়াত পাগল হাসান, এ মিজান, জিসান খান শুভ, সালাহউদ্দিন সাগর, হুমায়ূন কবীর, আরিফ হোসেন বাবু, আলামিন সরকার ও হানিফ খান।
গানগুলোর সুর করেছেন তরুণ মুন্সী, প্রয়াত পাগল হাসান, কাজী শুভ, জিসান খান শুভ, হুমায়ূন কবীর, আলামিন সরকার, আহমেদ সজীব, আদিব কবীর ও হানিফ খান। সংগীত পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন রাফি মোহাম্মদ, আহমেদ সজীব ও আদিব কবীর। অ্যালবামের একটি গানে কাজী শুভর সঙ্গে কণ্ঠ দিয়েছেন বাউল ও আধুনিক গানের শিল্পী বাঁধন সরকার পূজা।
দীর্ঘ সময় পর আবার একক অ্যালবাম প্রকাশের সুযোগকে নিজের জন্য বিশেষ আনন্দের বলে মনে করছেন কাজী শুভ। তাঁর মতে, অডিও ইন্ডাস্ট্রি যখন নানা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন একটি প্রতিষ্ঠান ঝুঁকি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ একক অ্যালবাম প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া তাৎপর্যপূর্ণ।
কাজী শুভ বলেন, বহু বছর পর আবার তাঁর একক অ্যালবাম প্রকাশিত হচ্ছে। বিষয়টি তাঁর জন্য আনন্দ ও উত্তেজনার। বর্তমান সময়ে অডিও শিল্পের কঠিন বাস্তবতার মধ্যেও এমন উদ্যোগ নেওয়ার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে ধন্যবাদ জানান। তাঁর ভাষ্য, এ ধরনের উদ্যোগ দেশের সংগীতাঙ্গনকে আরও সমৃদ্ধ করতে ভূমিকা রাখতে পারে।
নতুন অ্যালবামের নয়টি গান একে অন্যের চেয়ে আলাদা করার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও জানান এই শিল্পী। মজার বিষয় হলো, তাঁর প্রথম একক অ্যালবামেও ছিল নয়টি গান। নতুন অ্যালবামেও একই সংখ্যক গান রাখা হয়েছে। শ্রোতারা প্রতিটি গানেই আলাদা স্বাদ পাবেন বলে আশা করছেন তিনি।
অ্যালবামটি প্রকাশের উদ্যোগ সম্পর্কে ধ্রুব মিউজিক স্টেশনের প্রধান ও সংগীতশিল্পী ধ্রুব গুহ বলেন, বাংলা গানকে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের শ্রোতার কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই তারা কাজ করছেন। তাঁর মতে, দৃশ্যনির্ভর বিনোদনের প্রসারের কারণে সংগীতের শ্রবণভিত্তিক আবেদন কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লেও বাংলা গানের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য, ঐতিহ্য ও আবেগকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে শ্রোতাদের আগ্রহ আবারও বাড়ানো সম্ভব।
কাজী শুভর সংগীতজীবনে একক অ্যালবামের যাত্রা শুরু হয় ২০০৯ সালে ‘সাদা মাটা’ দিয়ে। এরপর প্রকাশিত হয় ‘সাদা মাটা-২’, ‘সাদা মাটা-৩’, ‘মায়ার আগুন’ ও ‘দাগা’। নতুন ‘কেউ বুঝল না’ তাঁর ষষ্ঠ একক অ্যালবাম।
বাংলাদেশের সংগীতশিল্পে একসময় অ্যালবাম ছিল শিল্পী, গীতিকার, সুরকার ও সংগীত পরিচালকদের সম্মিলিত সৃষ্টিশীলতার বড় ক্ষেত্র। শ্রোতারা একটি অ্যালবামের মাধ্যমে একই শিল্পীর একাধিক গান শোনার সুযোগ পেতেন। ডিজিটাল যুগে সেই জায়গায় এসেছে একক গান ও ধারাবাহিকভাবে গান প্রকাশের প্রবণতা। ফলে পূর্ণাঙ্গ একক অ্যালবাম প্রকাশ এখন আগের তুলনায় অনেক কম দেখা যায়।
এই বাস্তবতায় কাজী শুভর নয় গানের নতুন অ্যালবামটি পুরোনো অ্যালবাম সংস্কৃতির সঙ্গে বর্তমান ডিজিটাল প্রকাশব্যবস্থার একটি সংযোগ তৈরি করছে। ২৮ সেপ্টেম্বর প্রকাশের পর শ্রোতারা একসঙ্গে অ্যালবামের নয়টি গান শোনার সুযোগ পাবেন। দীর্ঘ বিরতির পর কাজী শুভর এই প্রত্যাবর্তন তাঁর ভক্তদের পাশাপাশি বাংলা গানের নিয়মিত শ্রোতাদের মধ্যেও নতুন আগ্রহ তৈরি করতে পারে।









