কুড়িগ্রামের উলিপুরে নির্ধারিত সময়ে সার না পাওয়ার অভিযোগে আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন কৃষকেরা। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের নতুন অনন্তপুর বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। প্রায় দেড় ঘণ্টা অবরোধের কারণে হাতিয়া ও রানীগঞ্জ ইউনিয়নের সঙ্গে জেলা শহরের সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয়। পরে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। সার বিতরণ শুরু হওয়ার পর কৃষকেরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নতুন অনন্তপুর বাজারের সার বিক্রয়কেন্দ্র ‘মেসার্স সুফিয়া এন্টারপ্রাইজ’ থেকে মঙ্গলবার সার দেওয়ার কথা ছিল। এ খবর পেয়ে সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকার কৃষকেরা সেখানে জড়ো হন। কেউ দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেন, কেউ আবার সার পাওয়ার আশায় বিতরণকেন্দ্রের আশপাশে অবস্থান নেন।
কৃষকদের অভিযোগ, সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও ডিলারের পক্ষ থেকে সার বিতরণ শুরু করা হয়নি। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় অপেক্ষমাণ কৃষকদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে তাঁরা সড়কে অবস্থান নিয়ে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এতে ওই আঞ্চলিক সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
অবরোধের কারণে হাতিয়া ও রানীগঞ্জ ইউনিয়ন থেকে জেলা শহরের দিকে এবং বিপরীতমুখী যানবাহন চলাচলে ভোগান্তি তৈরি হয়। সড়কের দুই পাশে যানবাহন আটকা পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে খবর দেওয়া হয় উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশকে।
পরে উলিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ টি এম আরিফ, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা এবং উলিপুর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তাঁরা কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সার বিতরণ শুরু করার উদ্যোগ নেন। প্রশাসনের হস্তক্ষেপের পর বিতরণ কার্যক্রম শুরু হলে কৃষকেরা সড়ক থেকে সরে যান। এরপর যান চলাচলও স্বাভাবিক হয়।
মেসার্স সুফিয়া এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপক শামসুল আলম বলেন, সার নিতে কৃষকদের ব্যাপক চাপ রয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কৃষি বিভাগ ও প্রশাসনের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছিল। তাঁর ভাষ্য, সকাল ১০টা বাজতে না বাজতেই কৃষকেরা দ্রুত সার নেওয়ার জন্য চাপ দিতে শুরু করেন। পরে তাঁরা সড়ক অবরোধ করেন। প্রশাসন ও পুলিশের সহযোগিতায় শেষ পর্যন্ত সার বিতরণ কার্যক্রম শুরু করা হয়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম বলেন, হাতিয়া অনন্তপুর বাজারের সার বিতরণকেন্দ্রে বিপুলসংখ্যক কৃষক উপস্থিত হওয়ায় সংশ্লিষ্টদের কিছুটা হিমশিম খেতে হয়। খবর পেয়ে ইউএনও ও পুলিশের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। পরে কৃষকদের মধ্যে সুশৃঙ্খলভাবে সার বিতরণ করা হয়েছে।
ইউএনও এ টি এম আরিফ বলেন, সকাল ৮টা থেকে সার বিতরণের কথা ছিল। কিন্তু কৃষকদের চাপ বেশি থাকায় ডিলারের লোকজন বিতরণ কার্যক্রম শুরু করতে সাহস পাননি। এতে দেরি হয়। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ কৃষকেরা সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে সার বিতরণ শুরু করেন।
সার নিয়ে কুড়িগ্রামে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিকবার উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। জেলার বিভিন্ন স্থানে সারের দাবিতে কৃষকদের বিক্ষোভ, গুদাম ভাঙচুর ও সার লুটের অভিযোগ এবং কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করার মতো ঘটনাও ঘটেছে। এসব ঘটনায় কৃষকদের কাছে সময়মতো সার পৌঁছে দেওয়া এবং বিতরণকেন্দ্রে শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়টি সামনে এসেছে।
কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, একই সময়ে বিপুলসংখ্যক কৃষক বিতরণকেন্দ্রে উপস্থিত হলে সার ব্যবস্থাপনায় চাপ তৈরি হতে পারে। তখন সার বিতরণের পাশাপাশি কৃষকদের নিয়ন্ত্রণ, প্রয়োজনীয় যাচাই এবং নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়ে। উলিপুরের ঘটনাতেও বিপুল উপস্থিতির কারণে পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসনের সহায়তা নিতে হয়েছে।
কৃষকদের জন্য সার একটি গুরুত্বপূর্ণ কৃষি উপকরণ। চাষাবাদের মৌসুমে নির্ধারিত সময়ে সার না পেলে জমিতে প্রয়োগের সময়সূচি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। সে কারণে বিতরণকেন্দ্রে দীর্ঘ অপেক্ষার পরও কার্যক্রম শুরু না হলে কৃষকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে সড়ক অবরোধের মতো কর্মসূচির কারণে সাধারণ যাত্রী ও পরিবহন চলাচলেও ভোগান্তি হয়।
মঙ্গলবারের ঘটনায় প্রায় দেড় ঘণ্টা সড়ক অবরোধের পর প্রশাসনের উদ্যোগে সার বিতরণ শুরু হয় এবং কৃষকেরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন। পরে এলাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে। তবে নির্ধারিত সময়ে সার বিতরণ শুরু করা এবং সরবরাহের সঙ্গে কৃষকদের চাহিদার সমন্বয় করা না গেলে এ ধরনের স্থানীয় উত্তেজনা আবারও দেখা দিতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে উঠে এসেছে।









