আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের সম্ভাবনার মধ্যে ভারতের তরুণ লেগস্পিনার বিপরাজ নিগামের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়ন ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। হায়দরাবাদের এক নারী এই অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি সামনে এসেছে এমন এক সময়ে, যখন চোটের কারণে বরুণ চক্রবর্তী এশিয়ান গেমসের দল থেকে ছিটকে যাওয়ায় বিপরাজের সামনে বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ১৮-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বরুণের জায়গায় এশিয়ান গেমসের দলে সুযোগ পেয়েছেন ২২ বছর বয়সী বিপরাজ। এর আগে জাপানের বিপক্ষে ভারতের একমাত্র টি-টোয়েন্টি ম্যাচেও তাঁর অভিষেক হতে পারে। ফলে জাতীয় দলের হয়ে প্রথমবার মাঠে নামার সম্ভাবনার মধ্যেই ব্যক্তিগত জীবনের এই অভিযোগ তাঁকে আলোচনায় নিয়ে এসেছে।
অভিযোগকারী নারী সম্প্রতি বিপরাজের বাড়ির সামনে অবস্থান নেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর দাবি ছিল, বিপরাজের সঙ্গে সরাসরি দেখা না হওয়া পর্যন্ত তিনি সেখান থেকে যাবেন না। কিন্তু ওই সময় বিপরাজ ভারতীয় দলের সঙ্গে জাপানে অবস্থান করছিলেন। ফলে তাঁর সঙ্গে দেখা করা সম্ভব হয়নি। পরে ওই নারী সেখান থেকে চলে যান।
বিষয়টি নিয়ে বিপরাজের বাবার সঙ্গেও ওই নারীর ফোনে কথা হয়েছে বলে নিউজ১৮ জানিয়েছে। এক সপ্তাহ পর এ বিষয়ে আলোচনা করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। অভিযোগকারী নারীও বলেছেন, তিনি কোনো বিরোধ তৈরি করতে চান না। তাঁর চাওয়া শুধু বিপরাজের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা।
ওই নারীর দাবি, ২০২৫ সালের মে মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে বিপরাজের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। এরপর বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিপরাজ তাঁর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে জড়ান বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগকারীর আরও দাবি, ২০২৫ সালের ২৯ জুলাই বিপরাজ তাঁকে নয়ডার একটি হোটেলে নিয়ে যান। সেখানে তাঁকে যৌন ও শারীরিক নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। এ ঘটনায় গৌতম বুদ্ধ নগর জেলার এক্সপ্রেসওয়ে থানায় অভিযোগ করা হয়। পরে ২০২৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর মামলাটি নথিভুক্ত হয় বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
তবে বিপরাজের পক্ষ থেকেও পুলিশের কাছে পাল্টা অভিযোগ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ৮ নভেম্বর বারাবাঁকি কোতোয়ালি থানায় করা অভিযোগে তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন মোবাইল নম্বর থেকে তাঁকে ফোন করা হয়েছে এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেওয়া হয়েছে।
অর্থাৎ, ঘটনাটিকে ঘিরে দুই পক্ষের আলাদা অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগকারী নারীর বক্তব্য এবং বিপরাজের পাল্টা অভিযোগ—দুটিই আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এখন পর্যন্ত এসব অভিযোগের সত্যতা আদালতে প্রমাণিত হয়নি। ফলে তদন্ত ও পরবর্তী আইনি কার্যক্রমের ফলাফলই বিষয়টির পরবর্তী গতিপথ স্পষ্ট করবে।
এর মধ্যেই ক্রিকেটীয় ক্যারিয়ারে গুরুত্বপূর্ণ একটি সময় পার করছেন বিপরাজ। মূলত লেগস্পিনার হলেও ব্যাট হাতেও কিছুটা অবদান রাখতে পারেন তিনি। উত্তরপ্রদেশের হয়ে এখন পর্যন্ত ছয়টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেছেন এই ক্রিকেটার।
আইপিএলেও তাঁর অভিজ্ঞতা রয়েছে। দিল্লি ক্যাপিটালসের হয়ে ১৯টি ম্যাচে মাঠে নেমে ১৩টি উইকেট নিয়েছেন তিনি। ঘরোয়া ক্রিকেট ও আইপিএলের অভিজ্ঞতার পর জাতীয় দলের দরজায় কড়া নাড়ার সুযোগ এসেছে তাঁর সামনে।
বরুণ চক্রবর্তীর চোট বিপরাজের জন্য এশিয়ান গেমসের দলে জায়গা করে নেওয়ার পথ খুলে দিয়েছে। একই সময়ে জাপানের বিপক্ষে সম্ভাব্য টি-টোয়েন্টি অভিষেক তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সূচনা করতে পারে। কিন্তু সেই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের আগেই ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ওঠা অভিযোগ তাঁকে নতুন এক পরিস্থিতির মুখোমুখি করেছে।
এখন নজর থাকবে মামলার অগ্রগতি, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর পরবর্তী বক্তব্য এবং আইনগত প্রক্রিয়ার দিকে। ক্রিকেটীয় ক্যারিয়ারের পাশাপাশি এই অভিযোগের বিষয়টিও যে বিপরাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।









