ঢাকার কেরানীগঞ্জে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ী ও তাঁর ফুফাতো ভাইকে গুলি করে প্রায় ২০ থেকে ২৫ ভরি সোনা ও অলংকার লুট করেছে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত। হামলায় দুজনই গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। পরে তাঁদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার পর কেরানীগঞ্জের হযরতপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হামলার সময় দুর্বৃত্তরা কয়েকটি মোটরসাইকেল ও একটি সিএনজি অটোরিকশা ব্যবহার করে ব্যবসায়ী ও তাঁর স্বজনদের বহনকারী অটোরিকশার গতিরোধ করে। এরপর অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাঁদের জিম্মি করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আহত অন্তর সরকার (২৫) হযরতপুর বাজারে জুয়েলারির ব্যবসা করেন। প্রতিদিনের মতো সোমবার সন্ধ্যায় দোকান বন্ধ করার পর তিনি তাঁর বাবা মিতাই সরকার এবং ফুফাতো ভাই রাজিব সরকারকে (২০) সঙ্গে নিয়ে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। তাঁদের গন্তব্য ছিল মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলার আটিপাড়া। তাঁদের সঙ্গে দোকানের সোনা-অলংকার ও নগদ টাকা ছিল।
রাত আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে তাঁদের বহনকারী অটোরিকশাটি হযরতপুর এলাকায় পৌঁছালে তিনটি মোটরসাইকেলে থাকা নয়জন এবং একটি সিএনজি অটোরিকশায় আসা আরও কয়েকজন সশস্ত্র ব্যক্তি সেটির পথ আটকে দেয়। আচমকা এ হামলায় ওই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
দুর্বৃত্তরা অন্তর ও রাজিবকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। দুজনের পায়েই গুলি লাগে। এরপর তাঁদের সঙ্গে থাকা সোনার অলংকারভর্তি একটি টিফিনবক্স ছিনিয়ে নেয় হামলাকারীরা। এতে লুট হওয়া সোনার পরিমাণ আনুমানিক ২০ থেকে ২৫ ভরি বলে জানা গেছে।
লুটের পর দ্রুত ঘটনাস্থল ছাড়ার সময় দুর্বৃত্তরা এলাকায় আতঙ্ক ছড়াতে পাঁচ থেকে ছয়টি বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। বিস্ফোরণের শব্দ ও গুলির ঘটনায় আশপাশের মানুষের মধ্যে ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে হামলাকারীরা দ্রুত পালিয়ে যায়।
আহত অন্তর সরকার ও রাজিব সরকারকে স্থানীয়ভাবে উদ্ধারের পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হামলার ঘটনায় একই সঙ্গে গুলি, বোমা বিস্ফোরণ এবং স্বর্ণালংকার লুটের ঘটনা ঘটায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের জন্য দোকান বন্ধের পর নগদ অর্থ ও মূল্যবান অলংকার নিয়ে যাতায়াতের সময় নিরাপত্তা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশেষ করে দিনের বেচাকেনা শেষে দোকানের মালামাল সঙ্গে নিয়ে দূরের এলাকায় যাওয়ার পথে এ ধরনের হামলার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। কেরানীগঞ্জের এই ঘটনায় দুর্বৃত্তরা আগে থেকেই গতিবিধি সম্পর্কে অবগত ছিল কি না, কিংবা লুটের ঘটনাটি পরিকল্পিত ছিল কি না—তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঘটনার পর লুট হওয়া সোনা ও নগদ অর্থের সুনির্দিষ্ট পরিমাণ এবং হামলাকারীদের পরিচয়ও তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে প্রত্যক্ষ পরিস্থিতি অনুযায়ী, একাধিক ব্যক্তি সমন্বিতভাবে এ হামলা চালিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার তদন্তে হামলাকারীদের শনাক্ত করা এবং লুট হওয়া স্বর্ণালংকার উদ্ধারের বিষয়টি এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।









