সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাই এলাকায় ধারাবাহিক নাশকতা, সহিংসতা ও আতঙ্ক সৃষ্টির অভিযোগে প্রায় দেড় ডজন মামলার আসামি সোহেল রানা ওরফে ‘ড্যান্সার রানা’কে গ্রেফতার করেছে সাভার মডেল থানা পুলিশ। ৩০ বছর বয়সী সোহেল রানা সাভার সদর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
সোমবার বিকেলে ধামরাই উপজেলার রোয়াইল ইউনিয়নের ফরিঙ্গা গ্রামের ফরিঙ্গা কিন্ডারগার্টেন হাই স্কুলের একটি অফিস কক্ষে আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাঁকে সাভার মডেল থানায় নেওয়া হয়।
সোহেল রানা সাভার সদর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চাঁপাইন তালতলা এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আলীর ছেলে। পুলিশ জানিয়েছে, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ছাত্র-জনতার মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের হওয়া একাধিক মামলায় তিনি এজাহারভুক্ত আসামি। এসব মামলায় তাঁর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সম্পৃক্ততার অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে।
পুলিশের ভাষ্য, রাজনৈতিক পরিচয়কে ব্যবহার করে সোহেল রানা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ভয়ভীতি সৃষ্টি, নাশকতা ও সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার তৎপরতা ছিল বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে নাশকতার অভিযোগে কয়েকজনকে গ্রেফতারের পর তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদে সোহেল রানা ওরফে ড্যান্সার রানার নাম একাধিকবার উঠে আসে। এরপর নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে তাঁর ভূমিকা যাচাই করতে তথ্য সংগ্রহ শুরু করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তদন্তের ধারাবাহিকতায় তাঁর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলাও করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এরপর সোহেল রানার ওপর গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়। তাঁর অবস্থান শনাক্ত করার পর সোমবার ধামরাইয়ের ফরিঙ্গা গ্রামের ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানো হয়। সেখানে আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
গ্রেফতারের পর তাঁর বিরুদ্ধে থাকা বিভিন্ন মামলার তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নাশকতা ও সহিংসতার অভিযোগে তাঁর কথিত ভূমিকা, সম্ভাব্য সহযোগী এবং এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে অর্থের কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সোহেল রানার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে তাঁর নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলেও জানান তিনি।
ওসি জানান, গ্রেফতার সোহেল রানাকে আদালতে সোপর্দ করে রিমান্ডের আবেদন করা হবে। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে নাশকতা, সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের সঙ্গে তাঁর সংশ্লিষ্টতা যাচাই করার পাশাপাশি সম্ভাব্য সহযোগী, অর্থের উৎস ও পৃষ্ঠপোষকদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করা হবে।
সোহেল রানার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর তদন্ত এবং তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী এগিয়ে নেওয়া হবে।









