পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় পাওনা মজুরির ৬০০ টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে একই পরিবারের চারজনকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টার দিকে উপজেলার সূর্যমনি ইউনিয়নের গোয়ালিয়া বাঘা গ্রামের ১ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন ওই গ্রামের জহিরুল (৩৫), তাঁর দুই ভাই রেজাউল (৩০) ও খায়রুল (২৭) এবং তাঁদের মা মনোয়ারা বেগম (৫৫)। ঘটনার পর স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর চারজনকেই উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আহত জহিরুলের পরিবারের অভিযোগ, কয়েকদিন আগে একই ওয়ার্ডের বাসিন্দা রাসেল মৃধার জমিতে ৬০০ টাকা মজুরির বিনিময়ে কাজ করেন জহিরুল। কাজ শেষ হওয়ার পর তিনি তাঁর প্রাপ্য মজুরি চান। এ সময় টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে রাসেল মৃধার সঙ্গে তাঁর কথা-কাটাকাটি হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
পরিবারটির ভাষ্য, একপর্যায়ে রাসেল মৃধা কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে জহিরুলের ওপর হামলা চালান। তাঁদের হাতে দেশীয় অস্ত্র ছিল বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। হামলাকারীরা জহিরুলকে মারধরের পাশাপাশি ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করেন।
ভাইকে মারধরের শিকার হতে দেখে তাঁকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসেন রেজাউল ও খায়রুল। তাঁদের মা মনোয়ারা বেগমও ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরিবারের অভিযোগ, তখন হামলাকারীরা তাঁদের ওপরও চড়াও হন। মারধর ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে চারজনই আহত হন।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হলে স্থানীয় কয়েকজন তাঁদের উদ্ধার করে দ্রুত বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। চিকিৎসকেরা আহতদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁদের অবস্থা বিবেচনায় উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে পাঠানো হয়।
বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক মামুনুর রশিদ বলেন, চারজনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখমের চিহ্ন রয়েছে। তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে খবর পেয়ে বাউফল থানার পুলিশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যায় এবং আহতদের বিষয়ে খোঁজ নেয়। বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে এ ঘটনায় অভিযুক্ত রাসেল মৃধার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। ফলে হামলার অভিযোগের বিষয়ে তাঁর পক্ষের বক্তব্য এবং ঘটনার অন্যান্য দিক তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করা হবে। অভিযোগের সত্যতা, হামলায় কারা জড়িত ছিলেন এবং ঘটনার সময় কী হয়েছিল—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে। বর্তমানে আহত চারজন বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।









