রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ ও যানবাহনে অগ্নিসংযোগের ঘটনার পর ঢাকা মহানগরজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করেছে পুলিশ ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন। নগরীর প্রবেশপথসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও পয়েন্টে চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহনে তল্লাশি, সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং নিয়মিত টহল বাড়ানো হয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৫১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসব ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে ৪৭টি মামলা করা হয়েছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে।
ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার প্রবেশমুখসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রায় ২৫০টি পয়েন্টে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। এসব স্থানে বিভিন্ন যানবাহন থামিয়ে তল্লাশি করা হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী চালক ও যাত্রীদের পরিচয় ও চলাচলের কারণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি নগরীর বিভিন্ন সড়ক ও এলাকায় পুলিশের টহলও জোরদার করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক ককটেল বিস্ফোরণ ও যানবাহনে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতেও কাজ করছে পুলিশ। ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে তা বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। ফুটেজের মাধ্যমে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের শনাক্ত করার পাশাপাশি ঘটনার আগে ও পরে তাদের গতিবিধি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে ডিএমপি।
বিশেষ অভিযানে ডিএমপির আটটি অপরাধ বিভাগ ও গোয়েন্দা বিভাগ থেকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রমনা বিভাগে ৩০ জন, লালবাগে ৩৪, ওয়ারীতে ৬৪, মতিঝিলে ৭৬, তেজগাঁওয়ে ৯২, মিরপুরে ১২০, গুলশানে ৩৭ এবং উত্তরা বিভাগে ৪৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া গোয়েন্দা বিভাগ ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে অস্ত্র, গোলাবারুদ, ককটেল বিস্ফোরণের আলামত এবং বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধারের কথা জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। জব্দ করা সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে দুটি প্রিসিশন পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন ও ১০টি গুলি। এ ছাড়া তিনটি চাপাতি, পাঁচটি চাকু, বিস্ফোরিত ককটেলের অবশিষ্টাংশ এবং ৫৩টি পেরেক উদ্ধার করা হয়েছে।
মাদকদ্রব্যের তালিকায় রয়েছে ৯৪ কেজি ৩৫০ গ্রাম গাঁজা, ১১ হাজার ১৬৭টি ইয়াবা এবং ১২১ দশমিক ৩ গ্রাম হেরোইন। এর বাইরে অন্যান্য মাদকদ্রব্য, একটি গাড়ি, পাঁচটি মোবাইল ফোন এবং নগদ ৭ হাজার ২০০ টাকা জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ডিএমপির জনসংযোগ ও গণমাধ্যম শাখার অতিরিক্ত উপকমিশনার নিয়াজ মেহেদী গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
রাজধানীতে একযোগে চেকপোস্ট ও বিশেষ অভিযান চালানোর ফলে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বেড়েছে। বিশেষ করে নগরীতে প্রবেশ ও বের হওয়ার পথগুলোতে যানবাহন তল্লাশির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাগুলোর সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত কার্যক্রমও চলছে।
তবে গ্রেপ্তার হওয়া ৫১৫ জনের বিরুদ্ধে পৃথকভাবে কী অভিযোগ রয়েছে, কোন মামলায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং জব্দ করা অস্ত্র, বিস্ফোরকসংশ্লিষ্ট আলামত ও মাদকদ্রব্যের সঙ্গে কার কী ধরনের সম্পৃক্ততা রয়েছে—এসব বিষয় সংশ্লিষ্ট মামলার তদন্ত ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, রাজধানীর সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং বিস্ফোরণ, অগ্নিসংযোগসহ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণের মাধ্যমে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।









