ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) মেহেদী হাসান মিরাজের দারুণ ব্যক্তিগত যাত্রার শেষটা হলো হতাশায়। দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে ২০৬ রানের বড় সংগ্রহ গড়েও জ্যামাইকা কিংসম্যানের কাছে পাঁচ উইকেটে হেরে বিদায় নিয়েছে গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্স। ম্যাচটিতে মিরাজ চার ওভার বোলিং করে ৪৩ রান দিয়েছেন, কোনো উইকেট পাননি। তাঁর বোলিংয়ে প্রতিপক্ষের ব্যাটাররা হাঁকিয়েছেন পাঁচটি ছক্কা।
ব্রিজটাউনে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় গায়ানা। শুরু থেকেই রান তোলার গতি ভালো ছিল দলটির। তবে ইনিংসের সবচেয়ে বড় অবদান আসে শিমরন হেটমায়ারের ব্যাট থেকে। বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে মাত্র ৪৫ বলে অপরাজিত ১০২ রান করেন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল আক্রমণাত্মক শটের দারুণ প্রদর্শন, যা গায়ানাকে দুই শতাধিক রানের সংগ্রহ এনে দেয়।
হেটমায়ারের সঙ্গে শেই হোপ করেন ৪০ রান। এরপর কোয়েন্টিন স্যাম্পসনের ২৯ রানের ঝোড়ো ইনিংসও গায়ানার রান বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ২০৬ রানের বড় লক্ষ্য দাঁড় করায় তারা।
এমন পুঁজি নিয়ে বোলিংয়ে নেমে গায়ানার আত্মবিশ্বাস থাকারই কথা ছিল। কিন্তু শুরু থেকেই জ্যামাইকার ব্যাটাররা আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে সেই সমীকরণ পাল্টে দেন।
ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই বল হাতে তুলে নেওয়া হয় মিরাজকে। দুই বাঁহাতি ব্যাটারের বিপক্ষে তাঁর বোলিং কাজে লাগানোর পরিকল্পনা ছিল অধিনায়ক ইমরান তাহিরের। কিন্তু প্রথম ওভারেই সেই পরিকল্পনা ধাক্কা খায়। মা’জ সাদাকাত মিরাজের ওই ওভারে দুটি ছক্কার পাশাপাশি একটি চার মারেন।
দ্বিতীয় ওভারেও স্বস্তি পাননি বাংলাদেশের এই অলরাউন্ডার। ওই ওভারে আরও একটি ছক্কা হজম করেন তিনি। পরে ইনিংসের ১২তম ওভারে আবার আক্রমণে এসে আরও দুটি ছক্কা দেন। ফলে চার ওভারের কোটা পূরণ করলেও উইকেটশূন্য থাকতে হয় তাঁকে। তাঁর বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড়ায় ৪-০-৪৩-০।
মিরাজের জন্য ফলটি বিশেষভাবে হতাশাজনক। এর আগের চার ম্যাচে তিনি গায়ানার হয়ে নিয়েছিলেন নয়টি উইকেট এবং দলের বোলিং আক্রমণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে না পারায় দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে গায়ানার বোলিং পরিকল্পনা চাপের মুখে পড়ে।
গায়ানার হয়ে তুলনামূলক কার্যকর বোলিং করেন ডুয়েইন প্রিটোরিয়াস। চার ওভারে ৩৭ রান দিয়ে তিনি নেন দুটি উইকেট। দলের অন্য বোলাররাও জ্যামাইকার ব্যাটারদের খুব একটা আটকে রাখতে পারেননি। ফলে ২০৬ রানের লক্ষ্যও ম্যাচের শেষ দিকে জ্যামাইকার জন্য সহজ হয়ে ওঠে।
জবাব দিতে নেমে শুরু থেকেই আগ্রাসী ব্যাটিং করে জ্যামাইকা। মা’জ সাদাকাত মাত্র ১৭ বলে ৪১ রান করে রান তাড়ার ভিত গড়ে দেন। তাঁর দ্রুতগতির ইনিংসে ছিল গায়ানার বোলারদের ওপর শুরুতেই চাপ তৈরির স্পষ্ট ছাপ।
এরপর কেসি কার্টি ৫৬ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন। কার্ক ম্যাকেঞ্জির ৩৪ রানও দলকে এগিয়ে নেয়। সাইম আইয়ুব করেন ২৩ রান। শেষ দিকে রভম্যান পাওয়েল মাত্র ১৭ বলে ৪০ রানের বিস্ফোরক ইনিংস খেলে ম্যাচটি কার্যত গায়ানার নাগালের বাইরে নিয়ে যান।
এক পর্যায়ে ২০৭ রানের লক্ষ্য বড় মনে হলেও জ্যামাইকার ব্যাটিংয়ের গতি ম্যাচের চিত্র বদলে দেয়। একের পর এক আক্রমণাত্মক শটে গায়ানার বোলারদের ওপর চাপ তৈরি করে তারা। শেষ পর্যন্ত পাঁচ উইকেট হাতে রেখেই লক্ষ্য পেরিয়ে যায় জ্যামাইকা কিংসম্যান।
এই হারের ফলে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার থেকেই এবারের সিপিএল অভিযান শেষ হলো গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্সের। অন্যদিকে ব্যক্তিগতভাবে টুর্নামেন্টে ভালো সময় কাটালেও মিরাজকে শেষ ম্যাচে বড় রান দিয়ে উইকেটশূন্য থাকার হতাশা নিয়েই প্রতিযোগিতা শেষ করতে হলো। দলকে ফাইনালে তুলতে না পারলেও আগের ম্যাচগুলোর কার্যকর পারফরম্যান্স তাঁর এবারের সিপিএল অভিযানের উল্লেখযোগ্য দিক হয়ে থাকল।









