চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে হঠাৎ করে গোপন মিছিল বের করার একটি অপচেষ্টা পণ্ড করে দিয়েছে পুলিশ। ফৌজদারহাট-বায়েজিদ লিংক রোড এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির লক্ষে জড়ো হওয়া নিষিদ্ধ সংগঠনের ওই নেতাকর্মীদের ধাওয়া দিয়ে হাতেনাতে ধরে ফেলা হয়। শুক্রবার বিকেলে উপজেলার ফৌজদারহাট-বায়েজিদ লিংক রোডের ৫ নম্বর ব্রিজ এলাকা থেকে ছাত্রলীগের এই ছয় কর্মীকে আটক করা হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত করার চক্রান্তের অংশ হিসেবে এই জমায়েত করা হয়েছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেলে ফৌজদারহাট লিংক রোডের সংবেদনশীল এলাকায় ছাত্রলীগের একটি ঝটিকা মিছিল বের করার পরিকল্পনা ছিল। নির্দিষ্ট ওই স্থানে কিছু লোক একত্রিত হয়ে স্লোগান দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে—এমন গোপন সংবাদ দ্রুত পৌঁছায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে। খবর পাওয়া মাত্রই সীতাকুণ্ড মডেল থানার পুলিশ ও ফৌজদারহাট পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মিছিলকারীরা পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের ধাওয়া করে ছয়জনকে আটক করতে সক্ষম হয়। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পাওয়ায় মূল দলটির বাকি সদস্যরা দ্রুত চারপাশের বিভিন্ন গলি ও ঝোপঝাড়ের আড়ালে পালিয়ে যেতে সমর্থ হয়।
আটককৃতদের প্রাথমিক পরিচয় নিশ্চিত করেছে পুলিশ। তারা হলেন—রাউজান উপজেলার নোয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা জামশেদ (৩০) ও শাকিব (২৪), একই এলাকার কচুখাইন নিবাসী সাব্বির হোসেন (২৪), বায়েজিদ বোস্তামী থানার বালুছড়া এলাকার মামুনুর রহমান মারুফ (২২), হাটহাজারী উপজেলার ফতেপুর এলাকার আরমান (২৪) এবং হাটহাজারীর চিকনদণ্ডী ইউনিয়নের নতুনপাড়া এলাকার বাসিন্দা আদনান হাবিব (২১)। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা এবং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্যে একত্রিত হওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফৌজদারহাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ রুবেল আফ্রাদ গণমাধ্যমকে জানান, ফৌজদারহাট লিংক রোডে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা জড়ো হয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি ঘটানোর উদ্দেশ্যে মিছিল বের করার চেষ্টা করছিল। পুলিশের তৎপরতার কারণে তাদের সেই উদ্দেশ্য সফল হয়নি। তিনি আরও জানান, আটককৃতদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি নিয়মিত মামলা রুজু করার প্রক্রিয়া বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া ও জিজ্ঞাসাবাদ সম্পন্ন করার পর তাদের কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হবে। একই সঙ্গে পালিয়ে যাওয়া অন্য সহযোগীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে এলাকায় পুলিশি নজরদারি ও তল্লাশি অভিযান জোরদার করা হয়েছে।









