,

জুলাই আন্দোলনের অ্যাম্বুলেন্সচালক সাজ্জাদকে সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় গ্রেপ্তারের অভিযোগ

চট্টগ্রামে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহতদের বিনামূল্যে অ্যাম্বুলেন্স সেবা দেওয়া মো. সাজ্জাদ হোসেন নামের এক অ্যাম্বুলেন্সচালককে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার করার চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। গত শনিবার নগরীর চকবাজারের শাহ লেইন এলাকা থেকে তাকে আটক করে পুলিশ। এর পরদিন রোববার দুটি পৃথক মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। ঘটনার প্রায় পাঁচ দিন পর গত শুক্রবার বিষয়টি জানাজানি হলে বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া সাজ্জাদ হোসেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের রোগী পরিবহনে নিয়োজিত অ্যাম্বুলেন্স চালান। তার বাড়ি নগরীর পাঁচলাইশ থানার গোয়াছি বাগান এলাকায়। পরিবার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে চকবাজার থানায় তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। ওই মামলাগুলো থেকে অব্যাহতি পেতে তিনি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনারের কাছে একটি লিখিত আবেদন করেছিলেন। এরপর থেকে পুলিশ তাকে আর হয়রানি করেনি বলে দাবি করেছে তার পরিবার।
ঘটনার বিবরণী থেকে জানা যায়, গত বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি রাতে চকবাজার এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা একটি মিছিল বের করেন। সেই ঘটনার পর দিন পুলিশ যে মামলা করে, তাতে সাজ্জাদ হোসেনকে আসামি করা হয়। বিষয়টি জানতে পেরে গত বছরের ১০ মার্চ তিনি সিএমপি কমিশনারের দপ্তরে আবেদন করে অব্যাহতি চান। ওই আবেদনের সঙ্গে জুলাই আন্দোলনের সময় সাজ্জাদ কী ধরনের ভূমিকা পালন করেছিলেন, তার সমর্থনে নানা তথ্য যুক্ত করা হয়। এরপর ২৫ মার্চ সন্ধ্যায় একই থানার চট্টেশ্বরী মোড় এলাকায় আরেকটি মিছিলের ঘটনা ঘটে। সেই মামলাতেও সাজ্জাদকে পুনরায় আসামি করা হয়। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে তৎকালীন চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহেদুল কবিরের সঙ্গে দেখা করেছিলেন সাজ্জাদ ও তার পরিবারের সদস্যরা। সে সময় পুলিশ কর্মকর্তা সবকিছু বিবেচনা করে অভিযোগপত্র দেওয়ার সময় তার নাম মামলা থেকে বাদ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন বলে দাবি পরিবারের।
এদিকে সম্প্রতি একটি পক্ষ পুলিশকে একটি ভুয়া ও জাল কমিটির কাগজ সরবরাহ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ওই কাগজে সাজ্জাদকে চকবাজার থানা শ্রমিক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সাজ্জাদের পরিবার এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে একে ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছে। সাজ্জাদের বড় ভাই এবং চকবাজার থানা ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, তার ভাই কখনো কোনো ধরনের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। বরং জুলাই আন্দোলনের সময় তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে আহত শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে অ্যাম্বুলেন্স সেবা দিয়েছেন এবং প্রয়োজনে রক্ত দিয়ে সহায়তা করেছেন। অথচ আজ তাকে মিথ্যা ও সাজানো সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় কারাগারে দিন কাটাতে হচ্ছে। তিনি মূলত রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন এবং তাকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
জুলাই আন্দোলনের সহযোগী যোদ্ধাকে এভাবে গ্রেপ্তারের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন আন্দোলন সংশ্লিষ্টরা। আন্দোলনের সংগঠক সাখাওয়াত হোসাইন শিপন বলেন, সাজ্জাদ হোসেন আমাদের আন্দোলনের একজন লড়াকু সহযোগী। তিনি ওই সংকটময় সময়ে আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার মহৎ কাজ করেছেন। এমন একজন সেবামূলক মানসিকতার ব্যক্তিকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মতো গুরুতর মামলায় গ্রেপ্তার করা কিছুতেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
পুরো বিষয়টি নিয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মো. হাবিবুর রহমানের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, থানায় দায়ের হওয়া সন্ত্রাসবিরোধী মামলার এজাহারনামীয় আসামি হিসেবেই সাজ্জাদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে মামলা থেকে বাঁচতে তিনি সিএমপি কমিশনারের কাছে কোনো আবেদনপত্র বা চিঠি দিয়েছিলেন কি না, সে বিষয়ে তার জানা নেই বলে মন্তব্য করেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।
Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।