ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইইবি)-এর ২০২৭–২০২৮ মেয়াদের নির্বাচনে প্রকৌশলী সাদে উদ্দিন আহমেদ সোহেল ও প্রকৌশলী কাজী খায়রুল বাশারের নেতৃত্বাধীন ‘সচেতন প্রকৌশলী সমাজ’ প্যানেলের সব প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। আগামী ১২ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় এ নির্বাচনকে সামনে রেখে ১৭ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের তালিকা প্রকাশের পর বিষয়টি জানা যায়।
প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, প্যানেলটির প্রেসিডেন্ট প্রার্থী প্রকৌশলী সাদে উদ্দিন আহমেদ সোহেল এবং সম্মানী সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী প্রকৌশলী কাজী খায়রুল বাশারের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। একই সঙ্গে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য মনোনয়ন জমা দেওয়া হাবিব আহমেদ হালিম মুরাদ, প্রকৌশলী শেখ মুনির আহমেদ, প্রকৌশলী আবদুল আলীম ও প্রকৌশলী মেজবাহুজ্জামান চন্দনের মনোনয়নও বাতিল করা হয়েছে।
প্যানেলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সম্মানী সহকারী সাধারণ সম্পাদক পদে মনোনয়ন জমা দেওয়া প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান, প্রকৌশলী মনির উদ্দিন, প্রকৌশলী ওয়াহিদুল ইসলাম ও প্রকৌশলী নাঈম আহমেদসহ অন্য প্রার্থীদের মনোনয়নও বাতিল করা হয়েছে। অর্থাৎ যাচাই-বাছাই শেষে প্যানেলটির কোনো প্রার্থীই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য প্রাথমিকভাবে বৈধতা পাননি।
মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্যানেলটির নেতারা আপত্তি জানিয়েছেন। তাদের দাবি, আইইবির মতো দীর্ঘদিনের একটি পেশাজীবী প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ, অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে হওয়া প্রয়োজন। তাদের অভিযোগ, দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে একটি পক্ষ আইইবি নিয়ন্ত্রণ করে আসছে এবং এর ধারাবাহিকতায় বর্তমান নির্বাচন আয়োজনের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
প্যানেলটির নেতৃবৃন্দ নির্বাচন কমিশনের গঠন নিয়েও আপত্তি জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, আইইবির গঠনতন্ত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যহীনভাবে একটি অনির্বাচিত কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে। তাদের এই বক্তব্যের স্বাধীনভাবে নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। একইভাবে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকেও এসব অভিযোগের তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নির্বাচনের ভোটার তালিকা নিয়েও অভিযোগ তুলেছে ‘সচেতন প্রকৌশলী সমাজ’। প্যানেলটির দাবি, প্রস্তাবিত ভোটার তালিকায় এমন কিছু প্রকৌশলীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যারা আইইবির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সদস্যপদ পাওয়ার নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করেন না। এ কারণে ভোটার তালিকার গ্রহণযোগ্যতা ও স্বচ্ছতা নিয়েও তারা প্রশ্ন তুলেছে।
এ ছাড়া মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে কয়েকজন প্রকৌশলীকে হয়রানি, হুমকি এবং হয়রানিমূলক বদলির পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন প্যানেলটির নেতারা। তাদের দাবি, এসব প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও প্যানেলভুক্ত প্রার্থীরা নির্ধারিত নিয়ম মেনে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য মনোনয়নপত্র জমা দেন।
তবে যাচাই-বাছাই শেষে সব প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের পর প্যানেলটির নেতারা অভিযোগ করেন, তাদের প্রার্থীদের মনোনয়ন বাতিলের পেছনে গ্রহণযোগ্য, যৌক্তিক কিংবা গঠনতন্ত্রে নির্ধারিত কারণ দেখানো হয়নি। মনোনয়ন বাতিলের সুনির্দিষ্ট কারণগুলো নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত নথিতে কীভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্যও তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
এদিকে সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছে ‘সচেতন প্রকৌশলী সমাজ’। প্যানেলটির নেতারা জানিয়েছেন, নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় আপিল করে মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আবেদন জানানো হবে। তাদের আশা, আপিলের পর প্রার্থীদের মনোনয়ন পুনরায় পর্যালোচনা করে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হবে।
আইইবির ২০২৭–২০২৮ মেয়াদের নির্বাচন আগামী ১২ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে মনোনয়ন যাচাই-বাছাই, আপিল এবং চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের মতো ধাপগুলো সম্পন্ন হওয়ার কথা। ফলে মনোনয়ন বাতিলের বিরুদ্ধে আপিলের পর নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কী পরিবর্তন আসে, সেটিই এখন সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও প্রার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ ঘটনায় প্যানেলটির অভিযোগ ও নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত—দুই পক্ষের বক্তব্যই নির্বাচনের পরবর্তী প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ হবে। তবে মনোনয়ন বাতিলের সুনির্দিষ্ট কারণ এবং অভিযোগগুলোর বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে।









