ফেনীর ছাগলনাইয়ায় গভীর রাতে জানালার গ্রিল কেটে একটি বাসায় ঢুকে ওমানপ্রবাসী আব্দুর রশিদ ভূঁইয়াকে কুপিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে একদল ডাকাতের বিরুদ্ধে। এ সময় তাঁর স্ত্রীকেও মারধর করা হয়। পরে বাসা থেকে সাড়ে তিন ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নিয়ে ডাকাতরা পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ৩টার দিকে ছাগলনাইয়া পৌরসভার পশ্চিম ছাগলনাইয়া বনানীপাড়ার ভূঁইয়া ভবনে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী আব্দুর রশিদ ভূঁইয়া জানান, তিনি তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে ওই ভবনের দ্বিতীয় তলায় বসবাস করেন। ঘটনার সময় বাসায় তাঁদের দুজন ছাড়া আর কেউ ছিলেন না। গভীর রাতে সবাই যখন ঘুমিয়ে ছিলেন, তখন ডাকাত দলের সদস্যরা বাসার একটি জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে।
ঘরে ঢোকার পর ডাকাতরা আব্দুর রশিদকে আক্রমণ করে। একপর্যায়ে তাঁকে কুপিয়ে আহত করা হয়। তাঁর স্ত্রীও ডাকাতদের মারধরের শিকার হন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এরপর ডাকাতরা বাসায় থাকা স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নিয়ে দ্রুত সেখান থেকে চলে যায়।
আব্দুর রশিদের দাবি, ডাকাতরা তাঁর বাসা থেকে সাড়ে তিন ভরি স্বর্ণালংকার এবং নগদ টাকা নিয়ে গেছে। তবে নগদ অর্থের সুনির্দিষ্ট পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। ঘটনার সময় বাড়িতে অন্য কোনো ব্যক্তি উপস্থিত না থাকায় স্বামী-স্ত্রী দুজনই ডাকাতদের হামলার মুখে পড়েন।
ডাকাতরা চলে যাওয়ার পর আহত অবস্থায় আব্দুর রশিদ ভোরে ছাগলনাইয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান। সেখানে তিনি চিকিৎসা নেন। তাঁর স্ত্রীর চিকিৎসা নেওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
ঘটনার খবর পেয়ে ছাগলনাইয়া থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ বাসাটি পরিদর্শন করার পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখছে। ডাকাতদের শনাক্ত করতে আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে।
ছাগলনাইয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ ইসমাইল জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে ঘটনার তদন্ত চলছে। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশের তদন্তে এখন মূলত ডাকাতদের শনাক্ত করা, তারা কীভাবে ভবনে প্রবেশ করেছে এবং ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে সিসিটিভি ফুটেজ থেকে সন্দেহভাজনদের গতিবিধি শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়া যায়নি। লুট হওয়া স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা উদ্ধার হয়েছে কি না, সে বিষয়েও পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য জানায়নি। ভুক্তভোগী পরিবারের আনুষ্ঠানিক অভিযোগের পর পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।








