কুড়িগ্রাম শহরের পূর্বপ্রান্তে ধরলা সেতুর ওপর যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহী নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত দুজনই কলেজছাত্র বলে জানা গেছে।
নিহতরা হলেন কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কাচিচর এলাকার নূর ইসলামের ছেলে খালিদ (২১) এবং আফছার আলীর ছেলে ফারুক (২৫)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে খালিদ ও ফারুক একটি মোটরসাইকেলে করে কুড়িগ্রাম শহর থেকে বাড়ির দিকে ফিরছিলেন। তাঁরা ধরলা সেতুর ওপর পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা ঢাকাগামী একটি যাত্রীবাহী বাস তাঁদের মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়। এতে দুই আরোহী সড়কের ওপর ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনার পর সেতুর ওপর স্থানীয় লোকজন জড়ো হন। পরে তাঁরা আহত খালিদ ও ফারুককে উদ্ধার করে দ্রুত কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। তবে দুজনের অবস্থাই গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
হাসপাতালের চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তাঁদের রংপুরে নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়। পরে স্বজন ও স্থানীয়দের সহায়তায় দুজনকে রংপুরের উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই পথের মধ্যে খালিদ ও ফারুকের মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার পর বাসটি ঘটনাস্থলে না থেকে দ্রুত চলে যায়। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে বাসটির পরিচয় বা চালককে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, বাসটি শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা চলছে।
কুড়িগ্রাম সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন দুর্ঘটনা ও দুই তরুণের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দুর্ঘটনার পর বাসটি পালিয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত বাসটি শনাক্ত বা আটক করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দুই তরুণের আকস্মিক মৃত্যুতে তাঁদের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোক নেমে এসেছে। দুর্ঘটনার পর বাসটি পালিয়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যেও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তবে দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এবং বাসটির চালকের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি। পুলিশ অভিযোগ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে।









