,

২৫ কোটি বাজেটের সিনেমার আয় ৩১০ কোটি, গড়ল রেকর্ড

মাত্র ২৫ কোটি রুপি বাজেটে নির্মিত একটি মালয়ালম সিনেমা। মুক্তির ২৬ দিনের মধ্যেই বিশ্বব্যাপী সেই ছবির আয় ছাড়িয়েছে ৩১০ কোটি রুপি। গিরিশ এ. ডি. পরিচালিত ‘বেথলেহেম কুডুম্বা ইউনিট’ এখন মালয়ালম চলচ্চিত্রের সর্বোচ্চ আয় করা সিনেমা হিসেবে নতুন রেকর্ড গড়েছে।

২১ আগস্ট প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পর থেকেই সিনেমাটি দর্শকদের আগ্রহের কেন্দ্রে ছিল। প্রথম দিকের সাড়া ধীরে ধীরে রূপ নেয় বড় বক্স অফিস সাফল্যে। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, মুক্তির ২৬তম দিনে ছবিটির বিশ্বব্যাপী আয় ৩১০ কোটি রুপির মাইলফলক পেরিয়েছে। এর ফলে মালয়ালম সিনেমার বক্স অফিসে এতদিনের প্রচলিত রেকর্ডও বদলে গেছে।

এর আগে সর্বোচ্চ আয়ের মালয়ালম সিনেমা ছিল ‘লোকা চ্যাপ্টার ১: চন্দ্রা’। কল্যাণী প্রিয়দর্শিনী অভিনীত ছবিটি মোট ৩০২ কোটি রুপি আয় করেছিল। গত বছরের আগস্টে মুক্তি পাওয়া সিনেমাটির রেকর্ড খুব বেশি দিন টিকল না। ‘বেথলেহেম কুডুম্বা ইউনিট’ মাত্র ২৬ দিনের ব্যবসায় সেটি অতিক্রম করে নতুন শীর্ষস্থান দখল করেছে।

মালয়ালম চলচ্চিত্রের সাম্প্রতিক সাফল্যের তালিকায় আরও রয়েছে ‘এল ২: এম্পুরান’ ও ‘থুডারুম’। যথাক্রমে প্রায় ২৬৫ কোটি ও ২৩৪ কোটি রুপি আয় করে সিনেমা দুটি সর্বোচ্চ আয়ের তালিকায় উল্লেখযোগ্য অবস্থান ধরে রেখেছে। ফলে সাম্প্রতিক সময়ে মালয়ালম ইন্ডাস্ট্রির বক্স অফিসে একের পর এক বড় সাফল্যের নজির তৈরি হচ্ছে।

বয়সের ব্যবধান পেরিয়ে প্রেমের গল্প

‘বেথলেহেম কুডুম্বা ইউনিট’-এর গল্প আবর্তিত হয়েছে অ্যাশলি ও জাস্টিনের সম্পর্ককে ঘিরে। আয়ারল্যান্ডে পড়াশোনা শেষ করে কেরালায় ফিরে আসে অ্যাশলি। সেখানে পাশের বাড়ির বিয়ের আয়োজন দেখতে গিয়ে তার মনে পড়ে যায় বহুদিন আগের এক সম্পর্কের কথা।

দুই বছর আগে পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে নতুন এলাকায় চলে এসেছিল অ্যাশলির পরিবার। সেখানেই প্রতিবেশী জাস্টিনের সঙ্গে তার পরিচয়। সংগীতের প্রতি দুজনের ভালোবাসা তাদের কাছাকাছি নিয়ে আসে। পরিচয় থেকে বন্ধুত্ব, আর সেই বন্ধুত্ব একসময় গড়ায় প্রেমে।

কিন্তু তাদের সম্পর্কের সামনে ছিল বড় বাধা। বয়সের বিস্তর পার্থক্যের পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের বিরোধিতাও সম্পর্কটিকে জটিল করে তোলে। গোপনে সম্পর্ক চালিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতির কাছে তাদের আলাদা হয়ে যেতে হয়।

অ্যাশলির ভবিষ্যতের কথা ভেবে জাস্টিন তাকে বিদেশে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেয়। দুজনের পথ তখন আলাদা হয়ে যায়। সময় পেরিয়ে যায়, জীবনও এগিয়ে চলে। কিন্তু পুরোনো অনুভূতি পুরোপুরি মুছে যায় না।

দীর্ঘ সময় পর কেরালায় ফিরে আসে অ্যাশলি। জাস্টিনের ভাইয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে আবারও দেখা হয় দুজনের। সেই পুনর্মিলনের মধ্য দিয়ে পুরোনো সম্পর্ক নতুন করে সামনে আসে। তারা বুঝতে পারে, এত সময় পেরিয়েও একে অন্যকে মন থেকে ভুলতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত তাদের সম্পর্ক কোন পরিণতির দিকে যায়, সেটিই সিনেমার গল্পের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ।

নিভিন পলি ও মমিতা বাইজু জুটির অভিনয়

সিনেমাটির কেন্দ্রীয় দুই চরিত্রে অভিনয় করেছেন নিভিন পলি ও মমিতা বাইজু। তাঁদের সঙ্গে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা গেছে সংগীত প্রতাপ, শ্যাম মোহন, সুরেশ কৃষ্ণ, শ্রীন্দা ও বিনয় ফোর্টকে।

পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন গিরিশ এ. ডি.। সিনেমাটি প্রযোজনা করেছেন অভিনেতা ফাহাদ ফাসিল, দিলেশ পরথান ও স্যাম পুশকার। তুলনামূলকভাবে ২৫ কোটি রুপির বাজেটে নির্মিত ছবিটির ৩১০ কোটি রুপির বেশি আয় তাই বক্স অফিসের দিক থেকে বড় ব্যবধানের সাফল্য তৈরি করেছে।

ছবিটির সাফল্য শুধু আয়-ব্যয়ের হিসাবেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। মুক্তির পর দর্শক ও সমালোচকদের কাছ থেকেও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়েছে সিনেমাটি। আইএমডিবিতে এর রেটিং ৮ দশমিক ৩, যা দর্শকদের গ্রহণযোগ্যতার একটি উল্লেখযোগ্য ইঙ্গিত হিসেবে সামনে এসেছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের পর্যালোচনাতেও ছবিটির গল্প, অভিনয় ও নির্মাণশৈলী নিয়ে প্রশংসা পাওয়া গেছে।

একদিকে বয়সের বড় ব্যবধানের প্রেম, অন্যদিকে পরিবার ও সামাজিক বাস্তবতার টানাপোড়েন—এই দুইয়ের সমন্বয়ে তৈরি গল্পটি দর্শকদের কাছে আলাদা আবেদন তৈরি করেছে। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পরিচিত অভিনয়শিল্পীদের উপস্থিতি এবং গিরিশ এ. ডি.-এর পরিচালনা।

সব মিলিয়ে ‘বেথলেহেম কুডুম্বা ইউনিট’-এর বক্স অফিস সাফল্য মালয়ালম সিনেমার সাম্প্রতিক যাত্রায় একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হয়ে উঠেছে। মাত্র ২৫ কোটি রুপি বাজেটের একটি সিনেমা কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ৩০০ কোটি রুপির গণ্ডি পেরিয়ে সর্বোচ্চ আয়ের রেকর্ড দখল করায় ছবিটি এখন মালয়ালম চলচ্চিত্রের বাণিজ্যিক সাফল্যের অন্যতম আলোচিত নাম।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।