বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ফিক্সিং ও দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তে আরও দুই কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তারা হলেন মো. আব্দুল কাইয়ুম রাশেদ ও মো. আমিন খান। বিসিবির ইন্টিগ্রিটি ইউনিটের তদন্তের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) অ্যান্টি-করাপশন কোডের একাধিক ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি জানিয়েছে, অভিযোগগুলো বিপিএলের ১১তম ও ১২তম আসরকে কেন্দ্র করে। দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা, দুর্নীতির প্রস্তাব বা সংশ্লিষ্ট তথ্য যথাযথ কর্তৃপক্ষকে না জানানো, অ্যান্টি-করাপশন তদন্তে সহযোগিতা না করা এবং তদন্তে বাধা সৃষ্টি বা বিলম্ব ঘটানোর মতো বিষয় অভিযোগের মধ্যে রয়েছে।
আব্দুল কাইয়ুম রাশেদ বিপিএলের ১২তম আসরে চট্টগ্রাম রয়্যালসের মালিক ছিলেন। অন্যদিকে মো. আমিন খান ওই আসরে একই দলের টিম অফিসিয়াল ও অপারেশন-ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে বিপিএলের ১১তম আসরে তিনি দুর্বার রাজশাহীর সঙ্গেও সংশ্লিষ্ট ছিলেন।
বিসিবির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আব্দুল কাইয়ুম রাশেদের বিরুদ্ধে আইসিসি অ্যান্টি-করাপশন কোডের ২.১.১, ২.৪.৪, ২.৪.৬ ও ২.৪.৭ ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অনৈতিকভাবে ম্যাচের ফলাফল বা ম্যাচের কোনো নির্দিষ্ট দিক প্রভাবিত করার চেষ্টা, দুর্নীতির প্রস্তাব সম্পর্কে অ্যান্টি-করাপশন কর্মকর্তাকে অবহিত না করা এবং তদন্তে সহযোগিতা না করার অভিযোগ।
মো. আমিন খানের বিরুদ্ধেও চারটি ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। সেগুলো হলো ২.১.১, ২.১.৪, ২.৪.৬ ও ২.৪.৭। তার বিরুদ্ধে ম্যাচের ফলাফল প্রভাবিত করার সঙ্গে সম্পৃক্ততা, অন্য কাউকে দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডে প্ররোচিত করা, তদন্তে অসহযোগিতা এবং তদন্ত-সংশ্লিষ্ট প্রমাণ নষ্ট করা কিংবা তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
বিপিএলের মতো ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে দুর্নীতি প্রতিরোধের জন্য খেলোয়াড়, দলীয় কর্মকর্তা, মালিকপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ওপর নির্দিষ্ট আচরণবিধি প্রযোজ্য। বিশেষ করে কোনো ম্যাচের ফলাফল বা নির্দিষ্ট ঘটনা ইচ্ছাকৃতভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা, দুর্নীতির প্রস্তাব গোপন রাখা কিংবা তদন্তকারীদের প্রয়োজনীয় তথ্য না দেওয়ার মতো কর্মকাণ্ড অ্যান্টি-করাপশন বিধির আওতায় পড়ে।
তবে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা মানেই তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে—এমন নয়। বিসিবির বিজ্ঞপ্তিতে যে বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলো তদন্তের ভিত্তিতে আনা অভিযোগ। এখন নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তার বক্তব্য ও জবাব বিবেচনা করা হবে।
বিসিবির নিয়ম অনুযায়ী, আব্দুল কাইয়ুম রাশেদ ও মো. আমিন খানকে অভিযোগের জবাব দেওয়ার জন্য ১৪ দিন সময় দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে তারা অভিযোগগুলোর বিষয়ে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করার সুযোগ পাবেন। পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া ও তদন্তের অগ্রগতির ওপর।
বিপিএলকে ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তে এর আগেও একাধিক ব্যক্তি ও কর্মকর্তার নাম সামনে এসেছে। বিসিবির অ্যান্টি-করাপশন কার্যক্রমের আওতায় এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নতুন করে আরও দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ায় বিপিএলের সাম্প্রতিক আসরগুলো ঘিরে চলমান তদন্তের পরিধি আরও স্পষ্ট হলো।
দুর্নীতিবিরোধী তদন্তে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সহযোগিতা করাও অ্যান্টি-করাপশন ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কোনো অভিযোগের বিষয়ে তথ্য থাকা সত্ত্বেও তা গোপন করা, তদন্তে প্রয়োজনীয় সহায়তা না করা কিংবা তদন্ত-সংশ্লিষ্ট প্রমাণে হস্তক্ষেপের অভিযোগ থাকলে সেটিও আলাদাভাবে বিবেচনায় আসতে পারে।
এ ঘটনায় আপাতত দুই কর্মকর্তাকে সাময়িক নিষেধাজ্ঞার আওতায় রাখা হয়েছে। এখন তাদের দেওয়া জবাব, তদন্তের পরবর্তী ধাপ এবং অভিযোগগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে নজর থাকবে। বিসিবির চলমান প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই নির্ধারিত হবে অভিযোগগুলোর পরবর্তী পরিণতি।









