রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মো. হৃদয় মিয়া (২৫) নামে এক মুদি ব্যবসায়ীকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে মোটরসাইকেল ও নগদ ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে আটটার দিকে সাদেক খান রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হামলায় পিঠ ও কোমরে গুরুতর আঘাত পাওয়ার পর হৃদয়কে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
আহত হৃদয় রাজধানীর ধানমন্ডির শংকর এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকেন। তিনি মুদি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। ব্যবসার প্রয়োজনীয় মালামাল সংগ্রহের জন্য বৃহস্পতিবার সকালে মোটরসাইকেল নিয়ে মোহাম্মদপুরের কৃষি মার্কেটের উদ্দেশে বের হয়েছিলেন তিনি।
হৃদয়ের বন্ধু মোহাম্মদ বিপ্লবের ভাষ্য অনুযায়ী, কৃষি মার্কেটের দিকে যাওয়ার পথে সাদেক খান রোড এলাকায় পৌঁছালে অন্তত পাঁচজন ব্যক্তি তাঁর মোটরসাইকেলের গতিরোধ করেন। আকস্মিকভাবে পথ আটকে দেওয়ার পর তাঁরা হৃদয়ের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করেন বিপ্লব।
একপর্যায়ে হামলাকারীরা চাপাতি দিয়ে হৃদয়ের পিঠ ও কোমরে কোপান। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে সড়কে পড়ে যান। পরে তাঁর মোটরসাইকেলটি নিয়ে যায় হামলাকারীরা। একই সময় তাঁর সঙ্গে থাকা নগদ ২০ হাজার টাকাও ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
হামলার পর আহত অবস্থায় সড়কে পড়ে থাকা হৃদয়কে স্থানীয়ভাবে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। হামলায় তাঁর শরীরের পিঠ ও কোমরের অংশে গুরুতর আঘাতের কথা জানিয়েছেন তাঁর বন্ধু।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান জানান, হৃদয় হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আহত ওই ব্যবসায়ী রাজধানীর শংকর এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকেন।
ঘটনার সময়টিও তাৎপর্যপূর্ণ। সকাল পৌনে আটটার দিকে হৃদয় ব্যবসার কাজে বেরিয়েছিলেন। দিনের ব্যস্ততা পুরোপুরি শুরু হওয়ার আগেই সাদেক খান রোডে তাঁর পথরোধ করে হামলা চালানো এবং পরে মোটরসাইকেল ও টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। বন্ধুর বক্তব্য অনুযায়ী, হামলাকারীর সংখ্যা ছিল অন্তত পাঁচজন এবং তাঁদের হামলায় চাপাতি ব্যবহার করা হয়।
ঘটনার পর এখন হৃদয়ের চিকিৎসার পাশাপাশি ছিনিয়ে নেওয়া মোটরসাইকেল ও নগদ অর্থ উদ্ধারের বিষয়টি সামনে এসেছে। একই সঙ্গে হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্যে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পরিচয় বা তাদের ব্যবহৃত যানবাহন সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি।
হামলাকারীরা কীভাবে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়, ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কেউ ছিলেন কি না এবং তাঁদের শনাক্তে কোনো তথ্য পাওয়া গেছে কি না—এসব বিষয়ও এখনও স্পষ্ট নয়। এ ঘটনায় থানায় মামলা বা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, সে সম্পর্কেও দেওয়া তথ্যে বিস্তারিত উল্লেখ নেই।
ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হলে হামলার কারণ, জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় এবং ছিনিয়ে নেওয়া মোটরসাইকেল ও নগদ অর্থের বিষয়ে আরও তথ্য জানা যেতে পারে। আপাতত আহত হৃদয় হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন এবং তাঁর পরিবারের ও পরিচিতজনদের প্রধান উদ্বেগ তাঁর শারীরিক অবস্থা ও ছিনিয়ে নেওয়া সম্পদ উদ্ধারের বিষয়টি।









