,

মিরসরাইয়ে বাড়ছে ডেঙ্গু, ১৫ দিনেই আক্রান্ত ১০

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে। চলতি সেপ্টেম্বরের প্রথম ১৫ দিনেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ জনের শরীরে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। এর আগে আগস্ট মাসেও ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসা ১২ জনের মধ্যে ১০ জনের পরীক্ষায় ডেঙ্গু ধরা পড়ে। সব মিলিয়ে গত ৪৫ দিনে উপজেলায় ২০ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় বাবলু (২৮) নামে আরও একজন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। অল্প সময়ের মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগও বাড়ছে।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীদের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। পরীক্ষার ফলাফলে ডেঙ্গু শনাক্ত হলে রোগীর শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় চিকিৎসকেরা রোগীদের দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।

ডেঙ্গুর বিস্তারের অন্যতম কারণ এডিস মশার বংশবিস্তার। বর্ষা মৌসুমে বিভিন্ন জায়গায় পানি জমে থাকায় এ মশার প্রজননের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়। বাড়ির আশপাশে অল্প পরিমাণ পানি জমেও এডিস মশার বংশবিস্তারের সুযোগ তৈরি করতে পারে। তাই শুধু রোগী শনাক্ত ও চিকিৎসার ওপর নির্ভর না করে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করাও জরুরি বলে মনে করছেন চিকিৎসকেরা।

স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাড়ির আঙিনা, ছাদ, বারান্দা কিংবা আশপাশের জায়গায় কোনো পাত্রে পানি জমে আছে কি না, তা নিয়মিত দেখতে হবে। ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ড্রামসহ যেসব সামগ্রীতে পানি জমতে পারে, সেগুলো পরিষ্কার রাখা প্রয়োজন। দীর্ঘদিন জমে থাকা পানি থাকলে তা অপসারণ করতে হবে।

ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলেও অনেক সময় শুরুতে তা সাধারণ জ্বরের মতো মনে হতে পারে। এ কারণে জ্বরকে অবহেলা না করে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছেন স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীরা। বিশেষ করে জ্বরের সঙ্গে ডেঙ্গুর অন্যান্য উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত পরীক্ষা করানো গুরুত্বপূর্ণ।

মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. মিনহাজ উদ্দিন বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তি ও পরিবার পর্যায়ে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। জ্বরসহ ডেঙ্গুর কোনো উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

তিনি বলেন, আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসার পাশাপাশি এডিস মশার বংশবিস্তার বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। এজন্য নিজেদের বসতবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি কোথাও পানি জমে থাকলে তা দ্রুত সরিয়ে ফেলতে হবে।

গত দেড় মাসের তথ্য বলছে, মিরসরাইয়ে ডেঙ্গু শনাক্তের সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়ছে। আগস্টে ১০ জন শনাক্ত হওয়ার পর সেপ্টেম্বরের প্রথম ১৫ দিনেই আরও ১০ জনের আক্রান্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও নজরদারির মধ্যে রাখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল নিয়মিত পরিষ্কার করা গেলে ডেঙ্গুর বিস্তার কমানো সম্ভব হতে পারে। একই সঙ্গে জ্বর বা সংশ্লিষ্ট উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।