,

ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৭ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৫৯৩

দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ফের উদ্বেগজনক মাত্রায় বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৫৯৩ জন। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬৪ জনে। আর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মোট সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৫৫ হাজার।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, গত এক দিনে ডেঙ্গুতে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে খুলনা বিভাগে। সেখানে মারা গেছেন দুজন। এ ছাড়া ঢাকা, বরিশাল, ময়মনসিংহ, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে একজন করে রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছেন ঢাকা বিভাগের সিটি করপোরেশনের বাইরের এলাকার বাসিন্দারা। গত ২৪ ঘণ্টায় এই অঞ্চলে ৩৮৩ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এরপর রয়েছে খুলনা বিভাগ, যেখানে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ২৯০ জন।

চট্টগ্রাম বিভাগে ১৬৫ জন এবং বরিশাল বিভাগে ১৫৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশন এলাকাতেও ডেঙ্গু রোগীর চাপ কম নয়। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৭১ জন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৩২ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

এ ছাড়া রাজশাহী বিভাগে ১৩৭ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৮২ জন, রংপুর বিভাগে ৬৫ জন এবং সিলেট বিভাগে নয়জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

এক দিনে কোন অঞ্চলে কত রোগী

অঞ্চলগত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি
বরিশাল বিভাগ১৫৯
চট্টগ্রাম বিভাগ১৬৫
ঢাকা বিভাগ (সিটি করপোরেশনের বাইরে)৩৮৩
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন১৭১
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন১৩২
খুলনা বিভাগ২৯০
ময়মনসিংহ বিভাগ৮২
রাজশাহী বিভাগ১৩৭
রংপুর বিভাগ৬৫
সিলেট বিভাগ
মোট১,৫৯৩

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত ২৪ ঘণ্টার নতুন রোগীসহ চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৫৫ হাজার ১৬৩ জন। একই সময়ে মৃত্যুর সংখ্যা ১৬৪ জনে পৌঁছেছে। অর্থাৎ চলতি বছরে ডেঙ্গুর কারণে বিপুলসংখ্যক মানুষকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে এবং মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।

নতুন রোগী ভর্তির পরিসংখ্যানেও দেশের বিভিন্ন এলাকার চিত্র উঠে এসেছে। শুধু ঢাকা শহর নয়, রাজধানীর বাইরের ঢাকা বিভাগ, খুলনা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, রাজশাহী ও অন্যান্য বিভাগেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। ফলে ডেঙ্গুর বিস্তারকে কেবল নগরকেন্দ্রিক সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ কমছে।

ডেঙ্গু এডিস মশাবাহিত ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির সাধারণত জ্বর, মাথাব্যথা, শরীর ও জয়েন্টে ব্যথা, দুর্বলতা, বমি কিংবা ত্বকে র‍্যাশের মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে রোগীর অবস্থা দ্রুত জটিল হয়ে উঠতে পারে। গুরুতর ডেঙ্গুতে রক্তক্ষরণ, রক্তচাপ কমে যাওয়া, শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে।

বিশেষ করে জ্বরের সঙ্গে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। ডেঙ্গু সন্দেহ হলে প্রয়োজন অনুযায়ী পরীক্ষা ও চিকিৎসা নিতে হয়। রোগীর অবস্থা গুরুতর হলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া জরুরি।

ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা। বাড়ি, কর্মস্থল ও আশপাশে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করা, পানির পাত্র ঢেকে রাখা এবং মশার বংশবিস্তারের সম্ভাব্য স্থানগুলো পরিষ্কার রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়।

চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা ১৬৪ এবং হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৫৫ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যক্তি পর্যায়ের সচেতনতার পাশাপাশি নিয়মিত মশকনিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন অঞ্চলে একসঙ্গে রোগী বাড়তে থাকায় স্থানীয় পর্যায়ে নজরদারি ও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তাও বাড়ছে।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।