,

ছাত্রদলের মবের শিকার আওয়ামী লীগ সাবেক এমপি, পুলিশের কাছে হস্তান্তর

পাবনা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা খন্দকার মো. আজিজুল হক আরজুকে রাজধানীর লালমাটিয়া এলাকা থেকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছেন স্থানীয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। পরে তাকে গ্রেফতার দেখায় মোহাম্মদপুর থানা-পুলিশ।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে লালমাটিয়ার মিনা বাজারের সামনে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ওই এলাকায় আজিজুল হক আরজুকে আটক করেন। একপর্যায়ে তাকে পুলিশের কাছে তুলে দেওয়া হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, আটকের সময় ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী আরজুর সঙ্গে শারীরিকভাবে আঘাতের ঘটনা ঘটান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতেও তাকে ঘিরে একদল মানুষের উপস্থিতি দেখা গেছে বলে জানা গেছে। তবে ঘটনার পুরো প্রেক্ষাপট ও কারা কীভাবে তাকে শনাক্ত করে আটক করেছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পুলিশ প্রকাশ করেনি।

খন্দকার মো. আজিজুল হক আরজুর বয়স ৬৯ বছর। তিনি পাবনা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। ২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে তিনি ওই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তার বাড়ি পাবনার আমিনপুর থানার নাটিয়াবাড়ী এলাকায়।

আটকের পর তাকে মোহাম্মদপুর থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে পুলিশ তাকে গ্রেফতার দেখায়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আরজুর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। সেসব মামলার তথ্য যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট অভিযোগের তদন্তের পর তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মোহাম্মদপুর থানা-পুলিশ আরও জানিয়েছে, আরজু হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত। গ্রেফতারের পর তার শারীরিক অবস্থার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়। পরে পুলিশি প্রহরায় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাকে চিকিৎসকের কাছে পাঠানো হয়েছে।

ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার জুয়েল রানা বলেন, স্থানীয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সহযোগিতায় আজিজুল হক আরজুকে আটক করা হয়েছে। পরে তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। তার বিরুদ্ধে থাকা একাধিক মামলার বিষয়ে যাচাই-বাছাই ও তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাজধানীতে কোনো ব্যক্তিকে জনতার হাতে আটক বা মারধরের পর পুলিশের কাছে হস্তান্তরের ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার পরিবর্তে অভিযোগ বা সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করার বিষয়টিই আইনগতভাবে প্রাসঙ্গিক। আরজুকে আটকের সময় শারীরিকভাবে আঘাত করার অভিযোগের বিষয়টিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাইয়ের আওতায় আসতে পারে।

এদিকে, গ্রেফতারের পর তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর প্রকৃতি, অভিযোগের ধরন এবং সেগুলোর বর্তমান অবস্থাও যাচাই করবে পুলিশ। তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তার বিরুদ্ধে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা সংশ্লিষ্ট মামলার নথি ও তদন্তের ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।