ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (মমেক) অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে হাসপাতালের নতুন ভবনের অষ্টম তলায় শিশু ওয়ার্ডে আগুন লাগে। আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ভবনটিতে কিছু সময় ধরে প্রচণ্ড ধোঁয়া ছিল।
ময়মনসিংহ সদর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার জুলহাজ উদ্দিন অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, সন্ধ্যা ৬টার দিকে নতুন ভবনের অষ্টম তলায় আগুন লাগার খবর পাওয়া যায়। খবর পেয়ে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফায়ার স্টেশন থেকে একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।
অগ্নিকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর হাসপাতালের রোগী ও তাঁদের স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। অনেকে দ্রুত নিচে নেমে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় হুড়োহুড়িতে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। নিচে নামার সময় কয়েকজন পড়ে গিয়ে আঘাত পান বলে ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে। তবে আগুনের ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
স্টেশন অফিসার জুলহাজ উদ্দিন বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ঘটনাস্থলে প্রচুর ধোঁয়া ছিল। সদর ফায়ার স্টেশন থেকেও একটি ইউনিট হাসপাতালে যাচ্ছিল। ধোঁয়া পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসার পর আগুন লাগার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হবে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক ধারণা, লিফটের মেশিন থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাঈন উদ্দিন খান জানান, প্রাথমিকভাবে লিফটের মেশিন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অগ্নিকাণ্ডের কারণ নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
অগ্নিকাণ্ডের সময় শিশু ওয়ার্ডে রোগী ও তাঁদের স্বজনরা অবস্থান করছিলেন। ফলে আগুনের খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে আতঙ্ক তৈরি হয়। হাসপাতালের মতো সংবেদনশীল স্থানে আগুন লাগার ঘটনায় রোগীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া এবং ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণে রাখাই তখন প্রধান বিষয় হয়ে ওঠে। এ সময় হাসপাতালের বিভিন্ন অংশে সাময়িকভাবে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হলেও পরে তা নিয়ন্ত্রণে আসে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। চিকিৎসাসেবাও সচল আছে। অগ্নিকাণ্ডের পর হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়েও নজর দেওয়া হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং এতে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা নির্ধারণে তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের সহকারী পরিচালক। এ জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্তের পর আগুনের সূত্রপাত, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।
ফায়ার সার্ভিস ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তৎপরতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো গেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে অগ্নিকাণ্ডের সময় হুড়োহুড়িতে কয়েকজন আহত হওয়ার ঘটনায় হাসপাতালের রোগী ও স্বজনদের মধ্যে তৈরি হওয়া আতঙ্কের বিষয়টিও সামনে এসেছে। তদন্ত শেষে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র স্পষ্ট হবে।









