ঢাকা: দেশে হাম পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হাম উপসর্গে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছে ৯০৫ শিশু। পরীক্ষায় নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে আরও ৬৩ শিশুর শরীরে। ফলে এক দিনে সন্দেহ ও নিশ্চিত মিলিয়ে মোট ৯৬৮ শিশুর হাম শনাক্ত হয়েছে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে হাম উপসর্গ নিয়ে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজার ৫৪৩। এর মধ্যে পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ২০ হাজার ৬৯ শিশুর।
একই সময়ে হাম উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ৫১ হাজার ২৪ শিশু। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ১ লাখ ৪৫ হাজার ২৫২ শিশু।
মৃত্যুর পরিসংখ্যানও পরিস্থিতির উদ্বেগজনক দিক তুলে ধরছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ১৫ মার্চ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাম উপসর্গে মোট ৯২২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
তবে পরীক্ষায় নিশ্চিত হামজনিত মৃত্যুর হিসাব আলাদা। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম আক্রান্ত কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি। কিন্তু ১৫ মার্চ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পরীক্ষায় নিশ্চিত হাম আক্রান্ত হয়ে ১০০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
হাম পরিস্থিতির সামগ্রিক চিত্র
| সূচক | সংখ্যা |
|---|---|
| গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে শনাক্ত | ৯০৫ শিশু |
| গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম শনাক্ত | ৬৩ শিশু |
| গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহ ও নিশ্চিত আক্রান্ত | ৯৬৮ শিশু |
| ১৫ মার্চ–১৩ সেপ্টেম্বর হাম উপসর্গে শনাক্ত | ১,৭১,৫৪৩ |
| ১৫ মার্চ–১৩ সেপ্টেম্বর নিশ্চিত হাম শনাক্ত | ২০,০৬৯ শিশু |
| একই সময়ে হাম উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তি | ১,৫১,০২৪ শিশু |
| একই সময়ে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র | ১,৪৫,২৫২ শিশু |
| গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে মৃত্যু | ৩ শিশু |
| ১৫ মার্চ–১৩ সেপ্টেম্বর হাম উপসর্গে মোট মৃত্যু | ৯২২ শিশু |
| গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামজনিত মৃত্যু | ০ |
| ১৫ মার্চ–১৩ সেপ্টেম্বর নিশ্চিত হামজনিত মৃত্যু | ১০০ শিশু |
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, হাম উপসর্গ নিয়ে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা এবং পরীক্ষায় নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা এক নয়। উপসর্গের ভিত্তিতে শনাক্ত হওয়া রোগীদের একটি অংশের ক্ষেত্রে পরবর্তী পরীক্ষায় হাম নিশ্চিত হতে পারে, আবার সবার ক্ষেত্রে তা নাও হতে পারে। এ কারণেই দুই ধরনের পরিসংখ্যান আলাদাভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।
হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি, কাশি বা শ্বাসতন্ত্রের নিঃসরণের মাধ্যমে সংক্রমণ ছড়াতে পারে। শিশুদের মধ্যে এর বিস্তার হলে অল্প সময়ের মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
দেশের হাম পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম নিয়মিতভাবে শনাক্ত রোগী, হাসপাতালে ভর্তি, সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পাওয়া এবং মৃত্যুর তথ্য সংগ্রহ করছে। এসব পরিসংখ্যানের মাধ্যমে সংক্রমণের বর্তমান চিত্র এবং স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর তৈরি হওয়া চাপ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
১৫ মার্চ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাম উপসর্গে শনাক্ত ১ লাখ ৭১ হাজার ৫৪৩ শিশুর মধ্যে ১ লাখ ৫১ হাজার ২৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। একই সময়ে ১ লাখ ৪৫ হাজার ২৫২ শিশু চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পেয়েছে। অর্থাৎ এ সময়ে বিপুলসংখ্যক শিশুকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে এবং তাদের একটি বড় অংশ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।
অন্যদিকে, একই সময়ের মধ্যে হাম উপসর্গে ৯২২ শিশুর মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। পরীক্ষায় নিশ্চিত হাম আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১০০ শিশুর। এই দুই হিসাবের পার্থক্য থেকে বোঝা যায়, উপসর্গভিত্তিক মৃত্যুর পরিসংখ্যান এবং পরীক্ষায় নিশ্চিত হামজনিত মৃত্যুর হিসাব একভাবে দেখা যায় না।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, গত এক দিনে নিশ্চিত হাম আক্রান্ত কোনো শিশুর মৃত্যু না হলেও হাম উপসর্গে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ফলে সংক্রমণের পাশাপাশি উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসা শিশুদের চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সূত্র: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।









