ঢাকার কেরানীগঞ্জে জমির সীমানা ও মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে একটি বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর এবং গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার হযরতপুর ইউনিয়নের মধ্য বালুচর এলাকায় এ ঘটনায় তিনটি সেমিপাকা ঘর ভেঙে ফেলার পাশাপাশি বেশ কয়েকটি ফলজ গাছ কেটে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। হামলার সময় বাড়ি থেকে নগদ টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের ভাষ্য, প্রতিবেশী আসলাম ও সালাম মিয়ার সঙ্গে তাদের বসতবাড়ির সীমানা ও জমির মালিকানা নিয়ে কয়েক বছর ধরে বিরোধ চলছে। এ নিয়ে আদালতে মামলাও চলমান। বিরোধপূর্ণ সম্পত্তি নিয়ে আদালতের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা রয়েছে বলেও দাবি করেছে পরিবারটি। তাদের অভিযোগ, বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকা অবস্থাতেই প্রতিপক্ষের লোকজন বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে।
পরিবারটির অভিযোগ অনুযায়ী, দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি দল তাদের বাড়িতে প্রবেশ করে। হামলাকারীরা তিনটি সেমিপাকা বসতঘরে ভাঙচুর চালায়। একপর্যায়ে ঘরগুলো পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এতে পরিবারের বসবাসের জায়গা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি ঘরের আসবাব ও অন্যান্য সামগ্রীরও ক্ষতি হয়েছে বলে তারা দাবি করেছেন।
শুধু বসতঘর নয়, বাড়ির আশপাশে থাকা বেশ কয়েকটি ফলজ গাছও কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, গাছগুলো দীর্ঘদিন ধরে তাদের বসতভিটার অংশ হিসেবে ছিল। হঠাৎ করে সেগুলো কেটে ফেলায় আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি বাড়ির পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
হামলার সময় ঘরে থাকা নগদ টাকা ও মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেছেন পরিবারের সদস্যরা। তবে কী পরিমাণ টাকা বা কী কী সামগ্রী নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে ভাঙচুর ও গাছ কাটার ঘটনায় মোট আর্থিক ক্ষতির পরিমাণও এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।
ঘটনার পর মধ্য বালুচর এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। দীর্ঘদিনের জমিসংক্রান্ত বিরোধের মধ্যে নতুন করে বসতবাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে বলে দাবি করেছে। তাদের ভাষ্য, সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ আদালতে বিচারাধীন থাকা অবস্থায় এ ধরনের ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগে বাড়িঘর ভাঙচুর, গাছ কেটে ফেলা, হামলা এবং নগদ টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে যাওয়ার বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ বিষয়টি কীভাবে দেখছে বা তদন্তের অগ্রগতি কতদূর, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, অভিযোগে অভিযুক্ত আসলাম ও সালাম মিয়ার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। ফলে হামলার কারণ, ঘটনার সময় সেখানে কারা উপস্থিত ছিলেন এবং ভাঙচুর বা লুটপাটের অভিযোগের সত্যতা কতটা—এসব বিষয়ে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।
এ ধরনের জমি ও সীমানা বিরোধ সাধারণত মালিকানা, দখল, সীমানা নির্ধারণ কিংবা জমির ব্যবহার নিয়ে তৈরি হয়। কোনো সম্পত্তি নিয়ে আদালতে মামলা চললে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর দাবি-দাওয়া নিষ্পত্তির জন্য আইনি প্রক্রিয়াই অনুসরণ করার কথা। আদালতের কোনো আদেশ বা নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকলে সেটি অমান্য হয়েছে কি না, তা নির্ধারণের ক্ষেত্রেও আদালতের নথি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কেরানীগঞ্জের মধ্য বালুচরের ঘটনায় এখন মূল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত। আদালতের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর ছিল কি না, কারা বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরে অংশ নিয়েছিল, সম্পদ লুটের অভিযোগের সত্যতা কী এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কত—এসব প্রশ্নের উত্তর তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়ার কথা। ভুক্তভোগী পরিবার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, ক্ষয়ক্ষতির বিচার এবং নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।









