ইন্দোনেশিয়ার জাভা সাগরে ২৪৩ যাত্রী নিয়ে একটি যাত্রীবাহী জাহাজ ডুবে গেছে। দুর্ঘটনার পর ১০৩ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও এখনো ১৪০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে জাহাজটি যোগাযোগবিচ্ছিন্ন হওয়ার পর ডুবে যায় বলে জানিয়েছে স্থানীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী সংস্থা।
রোববার উদ্ধারকারী সংস্থার কর্মকর্তাদের বরাতে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। নিখোঁজ যাত্রীদের সন্ধানে এরই মধ্যে বড় পরিসরে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। দুর্ঘটনাস্থলের দিকে বেশ কয়েকটি উদ্ধারকারী জাহাজ পাঠানোর পাশাপাশি একটি হেলিকপ্টারও মোতায়েন করা হয়েছে।
উদ্ধারকারী সংস্থার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ‘ভার্গো ট্রান্সপোর্ট ৮’ নামের জাহাজটি শনিবার পূর্ব জাভা প্রদেশের সুরাবায়া শহর থেকে সাউথ কালিমানতান প্রদেশের বানজারমাসিন শহরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। জাভা সাগর পাড়ি দেওয়ার সময় জাহাজটি বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়ে। একপর্যায়ে এর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে জাহাজটি ডুবে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
তবে জাহাজটি কী কারণে ডুবে গেছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। অতিরিক্ত ঢেউ, আবহাওয়ার অবনতি, যান্ত্রিক ত্রুটি কিংবা অন্য কোনো কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। দুর্ঘটনার কারণ জানতে পরবর্তী সময়ে তদন্ত করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বানজারমাসিন কার্যালয়ের উদ্ধারকারী সংস্থার প্রধান আই পুতু সুদায়ানা এক ভিডিও বার্তায় জানান, দুর্ঘটনার পর আশপাশে থাকা বিভিন্ন জাহাজের সহায়তায় ১০৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া যাত্রীদের কয়েকজনকে পূর্ব জাভার একটি বন্দরে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। তবে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের বিস্তারিত পরিচয় কিংবা তাদের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পূর্ণাঙ্গ তথ্য দেওয়া হয়নি।
এদিকে নিখোঁজ ১৪০ জনের সন্ধানে তৎপরতা আরও বাড়ানো হয়েছে। আই পুতু সুদায়ানার ভাষ্য অনুযায়ী, জাহাজটির সর্বশেষ জানা অবস্থানকে কেন্দ্র করে একটি বিশেষ উদ্ধারকারী দল কাজ করছে। কয়েকটি উদ্ধারকারী জাহাজ সমুদ্র এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছে। পাশাপাশি আকাশপথে নজরদারির জন্য একটি হেলিকপ্টারও অভিযানে যুক্ত করা হয়েছে।
উদ্ধার অভিযানে সময়ের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের। সমুদ্রের পরিস্থিতি, দৃশ্যমানতা এবং আবহাওয়ার পরিবর্তন নিখোঁজদের সন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রমকে প্রভাবিত করতে পারে। ফলে উদ্ধারকারীরা একদিকে সম্ভাব্য অবস্থান চিহ্নিত করার চেষ্টা করছেন, অন্যদিকে সমুদ্রপথে নিরাপদে তল্লাশি চালানোর বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হচ্ছে।
ইন্দোনেশিয়ার জন্য নৌপথে এমন দুর্ঘটনা বিশেষ উদ্বেগের বিষয়। দেশটি হাজার হাজার দ্বীপ নিয়ে গঠিত হওয়ায় দ্বীপগুলোর মধ্যে যাতায়াতে ফেরি ও যাত্রীবাহী জাহাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অনেক অঞ্চলে নৌপথই মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। বিমানভ্রমণের তুলনায় নৌযাত্রা অনেক ক্ষেত্রে বেশি সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী হওয়ায় সাধারণ মানুষও এর ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।
তবে দেশটিতে নৌযানের নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা প্রশ্ন রয়েছে। অতীতে অতিরিক্ত যাত্রী বা পণ্য বহন, প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও নৌযান চলাচল এবং নিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতিকে বিভিন্ন দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে সামনে আনা হয়েছে। এ কারণে বড় কোনো নৌ দুর্ঘটনার পর সাধারণত নৌযানের সক্ষমতা, যাত্রীসংখ্যা, আবহাওয়ার পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তাবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না—এসব বিষয় গুরুত্ব পায়।
জাভা সাগরের এই দুর্ঘটনাতেও এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, কীভাবে ২৪৩ যাত্রী নিয়ে চলা জাহাজটি ডুবে গেল এবং নিখোঁজদের মধ্যে কতজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হবে। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় হতাহতের সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে। ফলে নিখোঁজ যাত্রীদের সন্ধান এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণ—দুটি বিষয়ই এখন কর্তৃপক্ষের সামনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।









