,

গুলশানে আওয়ামী লীগের মিছিল ঘিরে গ্রেপ্তার ৭২

রাজধানীর গুলশানে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের ঝটিকা মিছিলকে কেন্দ্র করে করা মামলায় এখন পর্যন্ত ৭২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবারের ওই ঘটনার পর নতুন করে আরও ৪০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর আগে একই ঘটনায় ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বেলা পৌনে ১২টার দিকে গুলশান থানার ৩ নম্বর সড়কের একটি গলিতে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা জড়ো হন। পুলিশের দাবি, সেখানে প্রায় এক হাজার মানুষ সমবেত হয়ে মিছিল বের করার প্রস্তুতি নেন। এ সময় মিছিল থেকে ‘জয় বাংলা, শেখ হাসিনা আসবে’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।

পরে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মিছিলকারীদের সরিয়ে দেওয়ার সময় দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পুলিশের অভিযোগ, এ সময় তাদের লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ দুই রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে। একপর্যায়ে মিছিলকারীরা বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে পড়েন।

ঘটনার পর ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকা থেকে কয়েকজনকে আটক করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি ককটেলও উদ্ধার করা হয়েছে। তবে উদ্ধার করা এসব বস্তু ও বিস্ফোরণের ঘটনায় কারা জড়িত ছিলেন, তা তদন্তের বিষয় বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

মিছিলের পর প্রথম দফায় দুজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানায় পুলিশ। তারা হলেন আব্দুর রহিম (৪৯) ও মো. আরাফাত (২০)। পরে মিছিলে সরাসরি অংশ নেওয়ার অভিযোগে আরও ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সর্বশেষ আরও ৪০ জনকে গ্রেপ্তার করা হলে মোট সংখ্যা দাঁড়ায় ৭২ জনে।

এ ঘটনায় গুলশান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মাহবুব হোসাইন বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন। মামলায় ১১৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ৮০ থেকে ১০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, সমবেত ব্যক্তিরা সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান দেন এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাশাপাশি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটান। পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে গেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করেও ককটেল ছোড়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়, ককটেল বিস্ফোরণের মাধ্যমে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও জনগণের জানমালের ক্ষতির উদ্দেশ্যে ওই কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হয়। তবে মামলায় উত্থাপিত এসব অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো আসামিকে দোষী হিসেবে গণ্য করা যায় না।

গ্রেপ্তারদের মধ্যে প্রথম দফায় ২৪ জনকে শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হকের আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার এসআই রুহুল আমিন তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা আদালতে বলেন, মিছিল ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী, নির্দেশদাতা এবং অর্থ জোগানদাতাদের শনাক্ত করতে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। তদন্তের স্বার্থে তাদের কাছ থেকে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলেও রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি ছিল।

অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ডের বিরোধিতা করেন এবং তাদের জামিনের আবেদন জানান। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত ২৪ আসামির প্রত্যেকের ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে একজনকে অপ্রাপ্তবয়স্ক দাবি করা হলে তার রিমান্ড শুনানি স্থগিত করা হয়। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তার বয়সসংক্রান্ত নথিপত্র পর্যালোচনার পর পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, গুলশানের ওই মিছিলের ঘটনায় জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মামলায় নাম উল্লেখ করা ব্যক্তিদের পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আসামিদের পরিচয় শনাক্ত করার কাজও চলছে।

ঘটনার তদন্তে মিছিলের সঙ্গে কারা সরাসরি জড়িত ছিলেন, ককটেল বিস্ফোরণের সঙ্গে কারও সম্পৃক্ততা ছিল কি না এবং মামলায় উল্লেখ করা অভিযোগের সত্যতা কতটা—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হবে। একই সঙ্গে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের আইনগত পরিণতি নির্ধারিত হবে আদালতের প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।