,

মায়ের সঙ্গে দেখা করায় কিশোরীকে নির্যাতনের অভিযোগ

পটুয়াখালীর বাউফলে বিবাহবিচ্ছেদ হওয়া মায়ের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ায় এক কিশোরীকে মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে তার দাদা ও চাচার বিরুদ্ধে। নির্যাতনের সময় ধারণ করা ১৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তবে ভিডিওটি ঠিক কবে, কোথায় এবং কী পরিস্থিতিতে ধারণ করা হয়েছিল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, বাউফল উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের ওই কিশোরীর বাবা ঢাকায় একটি দোকানে চাকরি করেন। প্রায় ১৫ বছর দাম্পত্য জীবন কাটানোর পর দুই মাস আগে তার বাবা-মায়ের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এরপর থেকেই কিশোরীর বাবা ও মা আলাদা থাকছেন বলে জানা গেছে।

সম্প্রতি ওই কিশোরী বাউফল পৌর শহরের একটি রেস্তোরাঁয় গিয়ে তার মায়ের সঙ্গে দেখা করে। বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের মধ্যে জানাজানি হলে তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। এ ঘটনায় কিশোরীর দাদা আব্দুল হাকিম এবং চাচাতো চাচা ছালামের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির দৃশ্যে দেখা যায়, এক কিশোরীকে ঘিরে ধরে মারধর করা হচ্ছে। ভিডিওটি মাত্র ১৫ সেকেন্ডের হলেও এতে তাকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করার দৃশ্য দেখা যায়। তবে ভিডিওটির সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট, ধারণের সময় এবং এর আগে বা পরে কী ঘটেছিল, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বাসিন্দা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। বিশেষ করে একজন কিশোরীর ওপর শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেকে।

অভিযুক্ত আব্দুল হাকিম ও ছালাম আত্মগোপনে থাকায় তাদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ফলে তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তাদের পক্ষের বক্তব্যও জানা সম্ভব হয়নি।

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি দেখেছেন। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের মাধ্যমে শিগগিরই ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করা হবে।

পুলিশের তদন্তে ভিডিওটির সত্যতা, নির্যাতনের সময় ও স্থান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং কিশোরীর ওপর ঠিক কী ধরনের আচরণ করা হয়েছিল—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন পারিবারিক বিরোধের প্রভাব শিশু-কিশোরদের ওপর কীভাবে পড়ছে, তা নিয়ে সামাজিকভাবে উদ্বেগ রয়েছে। তবে এ ঘটনায় প্রকৃত পরিস্থিতি জানতে পুলিশের তদন্ত শেষ হওয়া এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করার আগে তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়াও জরুরি।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।