সিলেট বিভাগে হাম ও হাম-সদৃশ উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বাড়ছেই। একই সময়ে ডেঙ্গুতেও আক্রান্তের সংখ্যা ২৬১ জনে পৌঁছেছে। বিভাগীয় স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি সময়ে হাম শনাক্ত ও সন্দেহভাজন রোগীদের নিয়ে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক অবস্থায় রয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাবে, সিলেট বিভাগে এ পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৪৪ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। জেলার হিসাবে সবচেয়ে বেশি রোগী সিলেটে, ৩৭৬ জন। এর পরেই রয়েছে সুনামগঞ্জ, যেখানে হাম শনাক্ত হয়েছে ৩৫৭ জনের। মৌলভীবাজারে ১৫৮ এবং হবিগঞ্জে ১৫৩ জনের শরীরে রোগটি শনাক্ত হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হাম শনাক্তের তথ্য না থাকলেও সন্দেহভাজন রোগীদের হাসপাতালে ভর্তির চাপ কমেনি। এই সময়ে হাম সন্দেহে নতুন করে ১৫৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পাঁচ বছর বয়সী শিশু মিম তাহসিন নিজাম মারা গেছে। শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এই মৃত্যুর পর সিলেট বিভাগে হাম ও হাম-সন্দেহে মৃতের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬০ জনে। এর মধ্যে সিলেট জেলায় ৬৫ জন, সুনামগঞ্জে ৫৯ জন, হবিগঞ্জে ২২ জন এবং মৌলভীবাজারে ১৪ জন মারা গেছেন।
বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ৪৯৯ জন হাম রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি আছেন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, যেখানে ১৯৪ জন চিকিৎসা নিচ্ছেন। শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও ১৪৯ জন।
হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা এবং হাম সন্দেহে নতুন রোগীর চাপ স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে হামজনিত জটিলতার ঝুঁকি থাকায় আক্রান্ত ও সন্দেহভাজন রোগীদের দ্রুত শনাক্ত করে চিকিৎসার আওতায় আনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এদিকে হাম পরিস্থিতির পাশাপাশি ডেঙ্গুর চিত্রও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের সিলেট বিভাগীয় পরিচালক ডা. মো. মাহবুবুল আলম জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৩ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর ফলে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভাগে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৬১ জনে।
জেলাভিত্তিক হিসাবে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যায় এগিয়ে রয়েছে হবিগঞ্জ। সেখানে আক্রান্ত হয়েছেন ১১৫ জন। সুনামগঞ্জে ৫৯, সিলেটে ৪৯ এবং মৌলভীবাজারে ২৭ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। অন্যান্য জেলা থেকে আক্রান্ত হয়েছেন আরও ১১ জন।
ডেঙ্গুতেও এখন পর্যন্ত সিলেট বিভাগে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ২৯ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
একদিকে হাম শনাক্ত রোগীর সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে, অন্যদিকে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে। একই সময়ে হাম সন্দেহে বিপুলসংখ্যক রোগীর হাসপাতালে ভর্তি হওয়া সিলেটের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার জন্য পরিস্থিতির গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। চলমান পরিস্থিতিতে রোগী শনাক্তকরণ, চিকিৎসা এবং হাসপাতালগুলোর প্রস্তুতি—তিন ক্ষেত্রেই চাপ অব্যাহত রয়েছে।









