ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় বিজিবি ও র্যাবের যৌথ অভিযানে ভারতীয় ১০ টন ২০ কেজি জিরা জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ট্রাকে থাকা তিনজনকে আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার শাহবাজপুর এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন ফয়সাল আবীর, আজিজুল হাকিম ও হাবিবুর রহমান। তাদের বাড়ি সিলেট ও রাজশাহী জেলায় বলে জানিয়েছে বিজিবি।
বিজিবির ২৫ ব্যাটালিয়ন ও র্যাবের সদস্যরা সমন্বিতভাবে শাহবাজপুর এলাকায় অভিযান চালান। এ সময় সিলেট থেকে ঢাকাগামী একটি পণ্যবাহী ট্রাকে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশির একপর্যায়ে ট্রাকটি থেকে ভারতীয় জিরার বড় একটি চালান উদ্ধার করা হয়।
বিজিবির ২৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জাব্বার আহমেদ জানান, ট্রাকে মোট ১০ হাজার ২০ কেজি জিরা পাওয়া গেছে। অভিযানের সময় ট্রাকে থাকা ব্যক্তিদের কাছে জিরার বৈধ কাগজপত্র দেখতে চাওয়া হলে তারা প্রয়োজনীয় নথি উপস্থাপন করতে পারেননি। পরে জিরার পুরো চালানটি জব্দ করা হয় এবং ট্রাকে থাকা তিনজনকে আটক করা হয়।
বিজিবির পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যৌথ অভিযানের অংশ হিসেবে ট্রাকটিতে তল্লাশি চালিয়ে জিরার চালানটি শনাক্ত করা হয়। জব্দ করা পণ্যের উৎস ও পরিবহনের বৈধতা নিয়ে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে।
সিলেট থেকে ঢাকাগামী ওই ট্রাকটি সরাইলের শাহবাজপুর এলাকায় পৌঁছানোর পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সেটিতে তল্লাশি চালান। জব্দ করা জিরার পরিমাণ ১০ টনের বেশি হওয়ায় চালানটির পরিবহন ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়েও কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সীমান্তবর্তী অঞ্চলে ভারতীয় পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে বৈধ আমদানি-সংক্রান্ত কাগজপত্র থাকা প্রয়োজন। কোনো পণ্যের বৈধতা প্রমাণে প্রয়োজনীয় নথি দেখাতে না পারলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তা জব্দ করতে পারে। এ ধরনের অভিযানে পণ্যের উৎস, পরিবহনের পথ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় যাচাই করা হয়।
তবে এই ঘটনায় আটক তিনজনের বিরুদ্ধে পরবর্তী সময়ে কী ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি। জব্দ করা জিরা ও ট্রাকটির বিষয়ে আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
যৌথ অভিযানের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ জিরা জব্দের ঘটনায় চালানটির বৈধতা এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা যাচাই এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও জব্দ করা পণ্যের নথিপত্র যাচাইয়ের পর ঘটনার বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে।









