ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) অভিষেকটা স্মরণীয় করে রাখলেন বাংলাদেশের অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ। গায়ানা আমাজন ওয়ারিয়র্সের হয়ে প্রথম ম্যাচেই বল হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে ৪ ওভারে মাত্র ১৩ রান খরচে তুলে নিয়েছেন ৩ উইকেট। সঙ্গে করেছেন ১৩টি ডট বল। ব্যাট হাতে অবশ্য বড় ইনিংস খেলতে পারেননি তিনি, তবে বোলিংয়ের কার্যকর স্পেলেই নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়েছেন এই বাংলাদেশি অলরাউন্ডার।
সেন্ট লুসিয়া কিংসের বিপক্ষে ম্যাচে শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রিত ছিলেন মিরাজ। নিজের প্রথম ওভারেই উইকেটের দেখা পান তিনি। তার অফস্পিনে এগিয়ে এসে বড় শট খেলতে গিয়ে লং-অনে জন ক্যাম্পবেলের ক্যাচে পরিণত হন। এরপর নিজের তৃতীয় ওভারে পরপর কেমল সেভরি ও চারিথ আসালাঙ্কাকে ফিরিয়ে গায়ানার বোলিং আক্রমণে আরও বড় প্রভাব রাখেন মিরাজ।
চার ওভারের কোটা পূর্ণ করার পর তার বোলিংয়ের হিসাব দাঁড়ায় ১৩ রান দিয়ে ৩ উইকেট। রান দেওয়ার ক্ষেত্রে তার নিয়ন্ত্রণও ছিল চোখে পড়ার মতো। ২৪ বলের মধ্যে ১৩টিই ছিল ডট। ফলে প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানদের ওপর নিয়মিত চাপ তৈরি করতে সক্ষম হন তিনি।
তবে গায়ানার জয়ে সবচেয়ে বড় ব্যক্তিগত অবদান ছিল ইমরান তাহিরের। ৪৭ বছর বয়সী এই লেগ স্পিনার মাত্র ১৭ রান দিয়ে নিয়েছেন ৫ উইকেট। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এটি তাহিরের ক্যারিয়ারসেরা বোলিং। একই সঙ্গে সংক্ষিপ্ত সংস্করণে এটি তার ষষ্ঠ পাঁচ উইকেটের কীর্তি।
টি-টোয়েন্টিতে ছয়বার বা তার বেশি পাঁচ উইকেট নেওয়া বোলারদের তালিকাতেও তাহিরের এই পারফরম্যান্স তাকে বিশেষ জায়গায় রেখেছে। পাঁচ বা তার বেশি উইকেট নেওয়ার ক্ষেত্রে তার সামনে রয়েছেন কেবল ডেভিড ভিসে, যিনি এমন কীর্তি গড়েছেন সাতবার।
গায়ানার বোলাররা সেন্ট লুসিয়ার ব্যাটিং লাইনআপকে চাপে রাখার পর নিজেদের ইনিংসেও শুরুতে স্বস্তিতে ছিল না। ওপেনার গ্লেন ফিলিপসের ৩৭ রান দলকে এগিয়ে রাখলেও মাঝের ওভারে গায়ানার রান তোলার গতি কিছুটা কমে যায়। শেষ দিকে সেই চাপ সামলে নেন কুইন্টন স্যাম্পসন। মাত্র ১১ বলে ৩৭ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে ম্যাচের গতিপথ বদলে দেন তিনি। তার ইনিংসে ছিল একটি চার ও পাঁচটি ছক্কা।
স্যাম্পসনের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের সুবাদে গায়ানা শেষ পর্যন্ত ৬ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায়। এই জয়ে আট ম্যাচে তাদের জয় দাঁড়াল সাতটিতে। ১৪ পয়েন্ট নিয়ে দলটি পয়েন্ট তালিকার শীর্ষস্থানও ধরে রেখেছে।
গায়ানার হয়ে পাঁচ নম্বরে ব্যাট করতে নামা মিরাজ অবশ্য ব্যাট হাতে বেশি সময় উইকেটে থাকতে পারেননি। মাত্র ৪ বলে ১ রান করে স্পিনার চেজের বলে সুইপ করতে গিয়ে স্কয়ার লেগে চারিথ আসালাঙ্কার হাতে ক্যাচ দেন তিনি। ব্যাটিংয়ে অবদান রাখতে না পারলেও বল হাতে তার পারফরম্যান্স সেই ঘাটতি অনেকটাই পূরণ করেছে।
সিপিএলে মিরাজের এবারের দল পাওয়া অবশ্য প্রথমবার নয়। এর আগে ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্সের স্কোয়াডে থাকলেও ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি তিনি। এবার মোহাম্মদ নবীর জায়গায় গায়ানা আমাজন ওয়ারিয়র্সের দলে যুক্ত হয়েছেন। অভিষেক ম্যাচেই ৩ উইকেট নিয়ে সেই সুযোগের যথার্থতা প্রমাণের ভালো সূচনা করেছেন বাংলাদেশের এই অলরাউন্ডার।
সিপিএলে মিরাজের পরবর্তী ম্যাচ ১১ সেপ্টেম্বর ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে। সাবেক দলের বিপক্ষে সেই ম্যাচে গায়ানার হয়ে মাঠে নামবেন তিনি। অভিষেকে বল হাতে পাওয়া আত্মবিশ্বাস ধরে রেখে পরের ম্যাচেও দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখাই থাকবে তার লক্ষ্য।









