,

সিপিএল অভিষেকেই মিরাজের ঘূর্ণিতে গায়ানার জয়

দীর্ঘ অপেক্ষার পর ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) অভিষেক হলো বাংলাদেশের অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজের। প্রথম ম্যাচেই বল হাতে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়েছেন তিনি। তাঁর নিয়ন্ত্রিত স্পিনে ১৩ রান খরচায় ৩ উইকেট তুলে নিয়ে সেন্ট লুসিয়া কিংসকে মাত্র ১১৯ রানে আটকে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন মিরাজ। শেষ পর্যন্ত ৯ বল হাতে রেখে চার উইকেটের জয় পায় গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্স।

সিপিএলে মিরাজের খেলার সুযোগ তৈরি হয়েছিল আরও আগে। ২০১৭ সালে ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্সের হয়ে তাঁর মাঠে নামার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সেই সুযোগ কাজে লাগেনি। এরপর কেটে গেছে বেশ কয়েকটি বছর। অবশেষে গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্সের জার্সিতে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটল। আর অভিষেক ম্যাচেই কার্যকর পারফরম্যান্স দিয়ে নজর কেড়েছেন বাংলাদেশের এই অফস্পিনার।

প্রভিডেন্সে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নামে সেন্ট লুসিয়া কিংস। গায়ানার বোলারদের নিয়ন্ত্রিত আক্রমণের সামনে শুরু থেকেই স্বচ্ছন্দে খেলতে পারেনি তারা। মিরাজের পাশাপাশি অভিজ্ঞ লেগস্পিনার ইমরান তাহিরও ব্যাটারদের ওপর চাপ তৈরি করেন। নির্ধারিত ইনিংসে সেন্ট লুসিয়ার সংগ্রহ ১১৯ রানে থেমে যায়।

নিজের চার ওভারের স্পেলে মিরাজ রান দেওয়ার ক্ষেত্রে ছিলেন অত্যন্ত কৃপণ। ২৪ বলের মধ্যে ১৩টিতেই কোনো রান দেননি তিনি। অর্থাৎ অর্ধেকেরও বেশি বল ছিল ডট। তাঁর শিকারে পরিণত হন জন ক্যাম্পবেল, কেমোল সেভরি ও চরিথ আসালাঙ্কা। ৪-০-১৩-৩ বোলিং ফিগারটি ছিল গায়ানার জয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।

অন্য প্রান্তে ইমরান তাহিরও দুর্দান্ত বোলিং করেন। ৪ ওভারে মাত্র ১৭ রান দিয়ে পাঁচ উইকেট শিকার করেন দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক এই লেগস্পিনার। সেন্ট লুসিয়ার ব্যাটিং লাইনআপকে দ্রুত চাপে ফেলার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল বড়। ম্যাচসেরার পুরস্কারও ওঠে তাহিরের হাতে।

১২০ রানের লক্ষ্য খুব কঠিন ছিল না, তবে গায়ানার ব্যাটারদেরও শুরুটা খুব স্বচ্ছন্দ ছিল না। শেষ পর্যন্ত নয় বল হাতে রেখেই চার উইকেটের জয় নিশ্চিত করে স্বাগতিকরা। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৩৭ রান করেন গ্লেন ফিলিপস ও কুয়েন্টিন স্যাম্পসন। তাঁদের ব্যাটিংয়ে লক্ষ্য অতিক্রম করে গায়ানা।

মিরাজ অবশ্য ব্যাট হাতে নিজের অভিষেক স্মরণীয় করতে পারেননি। চার বল খেলে মাত্র এক রান করে আউট হন তিনি। তবে তাঁর মূল দায়িত্ব ছিল বল হাতে, আর সেই জায়গায় তিনি প্রত্যাশার চেয়েও ভালো শুরু পেয়েছেন।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে মিরাজের প্রশংসা করেন ইমরান তাহির। দলে থাকা মোহাম্মদ নবীর জায়গায় সুযোগ পাওয়া মিরাজ কীভাবে দায়িত্ব সামলেছেন, সেটিও উল্লেখ করেন তিনি। তাহির বলেন, নবী খুব উচ্চমানের বোলার এবং দলের অন্যতম সেরা বোলার ছিলেন। তাঁর জায়গায় এসে মিরাজ যেভাবে বোলিং করেছেন, সেটি দলকে স্বস্তি দিয়েছে।

তাহিরের মতে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিয়মিত পারফর্ম করা মিরাজ বিশ্বমানের একজন বোলার। গায়ানা দলে তাঁকে পাওয়া দলের জন্য বড় বিষয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে মিরাজের সাম্প্রতিক সময়টাও বেশ ইতিবাচক। চলতি বছর গল গ্যালান্টেসের হয়ে লঙ্কান প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জিতেছেন তিনি। পাকিস্তান সুপার লিগে লাহোর কালান্দার্স চ্যাম্পিয়ন হলেও সেখানে মিরাজ ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি। ফলে সিপিএলে গায়ানার হয়ে মাঠে নেমেই তাঁর দ্বিতীয় বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলার অভিজ্ঞতা হলো।

অভিষেক ম্যাচের পারফরম্যান্সে মিরাজ দেখিয়ে দিলেন, দীর্ঘ অপেক্ষার পর পাওয়া সুযোগটিকে তিনি কাজে লাগাতে প্রস্তুত। বিশেষ করে টি-টোয়েন্টিতে যেখানে অল্প রান দিয়ে নিয়মিত উইকেট তুলে নেওয়া একজন স্পিনারের বড় সম্পদ, সেখানে সিপিএলের প্রথম ম্যাচেই তাঁর ৪-০-১৩-৩ বোলিং ফিগার গায়ানা শিবিরে আশার বার্তা দিয়েছে।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।