৩৯ বছর বয়সেও ফুটবল বিশ্বকে বিস্মিত করে চলেছেন লিওনেল মেসি। ব্যালন ডি’অরের ইতিহাসে এবার তিনি গড়েছেন নতুন এক মাইলফলক, যা দীর্ঘদিন ধরে ছিল তাঁর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দখলে। ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অরের সংক্ষিপ্ত তালিকায় নাম উঠে আসার মাধ্যমে মেসি একসঙ্গে দুটি গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ড ভেঙেছেন—প্রথম ও সর্বশেষ মনোনয়নের মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘ ব্যবধান এবং সবচেয়ে বেশি বয়সে একবিংশ শতাব্দীতে মনোনীত হওয়ার কীর্তি।
মঙ্গলবার প্রকাশিত ব্যালন ডি’অরের সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা পেয়েছেন মেসি। এর ফলে তাঁর ব্যালন ডি’অর যাত্রা এখন বিস্তৃত হয়েছে ২০০৬ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত, অর্থাৎ টানা দুই দশকজুড়ে। এর আগে কোনো ফুটবলার এত দীর্ঘ সময় ধরে এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারের মনোনীত তালিকায় থাকতে পারেননি।
মেসির প্রথম মনোনয়ন আসে ২০০৬ সালে, যখন তিনি বার্সেলোনার এক উদীয়মান তরুণ। সেই সময় মাত্র দুটি ভোট পেলেও এরপর শুরু হয় ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম উজ্জ্বল ব্যক্তিগত অধ্যায়। ২০২৬ সালের মনোনয়নসহ তাঁর মোট ব্যালন ডি’অর মনোনয়নের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭-এ। এই তালিকায় তাঁর সামনে রয়েছেন শুধু রোনালদো, যার মোট মনোনয়ন ১৮টি।
তবে দীর্ঘ সময় ধরে ধারাবাহিকভাবে শীর্ষ পর্যায়ে থাকার দিক থেকে এখন সবার ওপরে মেসি। রোনালদো ২০০৪ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত, অর্থাৎ ১৮ বছর ব্যবধানে ব্যালন ডি’অরের তালিকায় ছিলেন। মেসি সেই রেকর্ড অতিক্রম করে পৌঁছে গেছেন ২০ বছরে।
সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে মনোনীত থাকার তালিকায় এখন শীর্ষ পাঁচ ফুটবলারের অবস্থান হলো—
| ফুটবলার | প্রথম ও শেষ মনোনয়নের ব্যবধান |
|---|---|
| লিওনেল মেসি | ২০ বছর |
| ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো | ১৮ বছর |
| লুকা মদরিচ | ১৬ বছর |
| করিম বেনজেমা | ১৫ বছর |
| পাওলো মালদিনি | ১৪ বছর |
শুধু এই রেকর্ডই নয়, মেসি আরও একটি মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। ৩৯ বছর বয়সে তিনি একবিংশ শতাব্দীতে ব্যালন ডি’অরের সবচেয়ে বেশি বয়সী মনোনীত খেলোয়াড় হয়েছেন। এর আগে ২০২২ সালে ৩৭ বছর বয়সে এই কীর্তি গড়েছিলেন রোনালদো।
অবশ্য সর্বকালের সবচেয়ে বেশি বয়সে ব্যালন ডি’অর জয়ের রেকর্ড এখনো ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি স্ট্যানলি ম্যাথিউজের দখলে। ১৯৫৬ সালে প্রথম ব্যালন ডি’অর জয়ের সময় তাঁর বয়স ছিল ৪১ বছর।
ব্যালন ডি’অরের সঙ্গে মেসির সম্পর্ক বরাবরই অসাধারণ। তিনি রেকর্ড আটবার এই পুরস্কার জিতেছেন—২০০৯, ২০১০, ২০১১, ২০১২, ২০১৫, ২০১৯, ২০২১ এবং ২০২৩ সালে। অন্যদিকে রোনালদোর ব্যালন ডি’অর সংখ্যা পাঁচটি।
মজার বিষয় হলো, ইউরোপের শীর্ষ ফুটবল থেকে দূরে থেকেও মেসি এই কীর্তি গড়েছেন। বর্তমানে তিনি মেজর লিগ সকারের ক্লাব ইন্টার মায়ামির হয়ে খেলছেন এবং ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অরের তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের লিগ থেকে একমাত্র সক্রিয় খেলোয়াড় তিনিই।
আর্জেন্টিনার হয়ে সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক সাফল্য এবং ক্লাব ফুটবলে ইন্টার মায়ামির হয়ে শিরোপা জয়ের অবদানও তাঁর এই মনোনয়নে ভূমিকা রেখেছে। যদিও এবারের পুরস্কার জয়ের দৌড়ে রদ্রি, কিলিয়ান এমবাপ্পে, হ্যারি কেইন ও লামিন ইয়ামালের নাম বেশি আলোচনায় রয়েছে, তবুও মেসির এই মনোনয়ন একটি ভিন্ন বার্তা দেয়।
২০০৬ সালে ব্যালন ডি’অরের মঞ্চে যাত্রা শুরু করা এক কিশোর, দুই দশক পরও বিশ্বের সেরা ফুটবলারদের তালিকায় নিজের জায়গা ধরে রেখেছেন। ফুটবলে দীর্ঘ সময় ধরে শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখার যে মানদণ্ড একসময় রোনালদোর ১৮ বছরের রেকর্ডে সীমাবদ্ধ ছিল, সেটি এখন নতুন করে সংজ্ঞায়িত করেছেন লিওনেল মেসি।










