ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এজবাস্টন টেস্টে একাদশে বড় পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নেমেছে পাকিস্তান। দলে এসেছে চারটি পরিবর্তন। তাঁদের মধ্যে তিনজন—পেসার রাজাউল্লাহ, মোহাম্মদ ইমরান ও উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান গাজি ঘোরি—প্রথমবারের মতো টেস্ট ক্রিকেটে মাঠে নামার সুযোগ পেয়েছেন। আর প্রায় ১৮ মাস পর পাকিস্তানের টেস্ট দলে ফিরেছেন ব্যাটসম্যান সাইম আইয়ুব।
এজবাস্টন টেস্ট শুরুর আগেই পাকিস্তানের একাদশ নিয়ে ছিল বাড়তি কৌতূহল। কারণ, সাম্প্রতিক সময়ে দলটির ভেতরে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। লর্ডস টেস্টের পর পাকিস্তান স্কোয়াড থেকে সাত ক্রিকেটারকে বাদ দেওয়া হয় এবং তাঁদের দেশে ফিরিয়ে পাঠানো হয়। তাঁদের জায়গায় নতুন করে দলে নেওয়া হয় সাতজনকে। নতুনদের মধ্যে পাঁচজনেরই ছিল না টেস্ট ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা।
খেলোয়াড় পরিবর্তনের পাশাপাশি কোচিং স্টাফেও এসেছে বড় রদবদল। প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ ও বোলিং কোচ উমর গুলকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এজবাস্টনে পাকিস্তানের নতুন চেহারার দলটি কেমন করে, সেটিই হয়ে ওঠে ম্যাচের অন্যতম আলোচিত বিষয়।
এই পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছে রাজাউল্লাহ, মোহাম্মদ ইমরান ও গাজি ঘোরির। নতুন দুই পেসারকে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পাকিস্তানের বোলিং আক্রমণে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। অন্যদিকে গাজি ঘোরির অভিষেক দলের উইকেটকিপিং বিভাগেও নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।
দীর্ঘ বিরতির পর সাইম আইয়ুবের ফেরাটিও ছিল আলোচনায়। প্রায় দেড় বছর পর টেস্ট দলে ফিরলেও প্রত্যাবর্তনটা অবশ্য তাঁর জন্য সুখকর হয়নি। টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নামা পাকিস্তানকে শুরুতেই ধাক্কা দেন ইংল্যান্ডের পেসার ওলি রবিনসন। কোনো রান না করেই তাঁর বলে আউট হন সাইম। এই উইকেটের মধ্য দিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে ১০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন রবিনসন।
সাইমের পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি পাকিস্তানের আরেক ওপেনার আজান আওয়াইসও। ৯ রান করে জফরা আর্চারের বলে আউট হন তিনি। ফলে ইনিংসের শুরুতেই পাকিস্তান চাপে পড়ে যায়। নতুন ও পরিবর্তিত একাদশের জন্য এমন পরিস্থিতি সামলে ইনিংসকে এগিয়ে নেওয়াই হয়ে ওঠে বড় পরীক্ষা।
ম্যাচ শুরুর আগে অবশ্য তরুণ ক্রিকেটারদের নিয়ে আশাবাদী ছিলেন পাকিস্তানের অধিনায়ক বাবর আজম। বাইরের আলোচনা ও সমালোচনা দলের নিয়ন্ত্রণের বাইরে উল্লেখ করে তিনি নতুনদের নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের সুযোগ হিসেবে এই ম্যাচকে দেখার কথা জানান। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল, বড় পরিবর্তনের মধ্যেও দলের লক্ষ্য থাকবে মাঠের পারফরম্যান্সে মনোযোগ দেওয়া।
এজবাস্টনে পাকিস্তানের একাদশে তাই অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের মিশ্রণ দেখা যাচ্ছে। ব্যাটিংয়ে বাবর আজম, শান মাসুদ, আবদুল্লাহ শফিক ও সৌদ শাকিলের মতো পরিচিত মুখ রয়েছেন। তাঁদের পাশাপাশি ওপেনিংয়ে ফিরেছেন সাইম আইয়ুব এবং নতুন মুখ আজান আওয়াইস। উইকেটের পেছনে অভিষিক্ত গাজি ঘোরি। বোলিংয়ে মোহাম্মদ আলী ও মোহাম্মদ আব্বাসের সঙ্গে দায়িত্ব ভাগ করে নিয়েছেন অভিষিক্ত রাজাউল্লাহ ও মোহাম্মদ ইমরান।
দলটির সামনে চ্যালেঞ্জ শুধু ইংল্যান্ডের শক্তিশালী ব্যাটিং-বোলিং সামলানো নয়; নতুন ক্রিকেটারদের আন্তর্জাতিক টেস্টের চাপের মধ্যেও নিজেদের মেলে ধরার সুযোগ তৈরি করা। একসঙ্গে এত পরিবর্তনের পর একটি দলের সমন্বয় তৈরি করতে সময় প্রয়োজন হয়। কিন্তু টেস্ট ক্রিকেটে সময়ের পাশাপাশি প্রয়োজন ধারাবাহিকতা ও পরিস্থিতি অনুযায়ী দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা।
লর্ডস টেস্টের পরের ঘটনাপ্রবাহ এবং এজবাস্টনের একাদশ দেখিয়ে দিচ্ছে, পাকিস্তান এখন একটি পরিবর্তনের পর্যায়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অভিষিক্ত ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স, সাইম আইয়ুবের প্রত্যাবর্তন এবং অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের নেতৃত্ব—এই তিনটি দিকই ম্যাচের গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
পাকিস্তানের একাদশ: আজান আওয়াইস, সাইম আইয়ুব, শান মাসুদ, আবদুল্লাহ শফিক, বাবর আজম (অধিনায়ক), সৌদ শাকিল, গাজি ঘোরি (উইকেটকিপার), মোহাম্মদ আলী, রাজাউল্লাহ, মোহাম্মদ ইমরান ও মোহাম্মদ আব্বাস।










