নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মাদক, অপরাধ, পরোয়ানা, রাজনৈতিক ও নিয়মিত মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে মাদকসংক্রান্ত মামলার আসামি, মাদকসেবী, পরোয়ানাভুক্ত ব্যক্তি এবং বিভিন্ন অপরাধে অভিযুক্তরা রয়েছেন।
সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর সকালে সোনারগাঁ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় একযোগে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। স্থানীয় পর্যায়ে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদার এবং বিভিন্ন মামলায় পলাতক বা অভিযুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন পূর্ব বেহাকৈর এলাকার মামুন মিয়া (৩৫), খামারগাঁও এলাকার আমজাদ হোসেন (৪৮) ও সুমন (৩৮), ভারগাঁও এলাকার অপু (২২), গোয়ালদী এলাকার রাসেল (৩০), হাবিবপুর এলাকার শফি উদ্দিন (৩৮), কুতুবপুর এলাকার জাহাঙ্গীর আলম (৫০) এবং দৌলতপুর এলাকার রমজান হোসেন (৩০)।
এ ছাড়া পরোয়ানাভুক্ত আসামি হিসেবে পঞ্চমীঘাট এলাকার আল আমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় শেরপুর সদরের বাসিন্দা কাউসার আহমেদকে (২৭) গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি বর্তমানে সোনারগাঁয়ের বাড়ি মজলিশ এলাকায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছিলেন।
রাজনৈতিক মামলায় ভারগাঁও আদমপুর এলাকার আব্দুল করিম (৫৯) এবং নিয়মিত মামলায় হাবিবপুর এলাকার উজ্জল (৩৮) ও বাড়ি মজলিশ এলাকার মো. হৃদয়কে (২৩) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পাশাপাশি মাদকসংক্রান্ত অপরাধের সঙ্গে জড়িতদেরও আইনের আওতায় আনা হয়েছে। সোনারগাঁয়ের বিভিন্ন এলাকায় মাদকের বিস্তার ঠেকাতে এমন অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে।
সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মহম্মদ আব্দুল বারিক ১৩ জনকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মাদকবিরোধী অভিযানকে সামনে রেখে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নজরদারি অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে ‘সামারি ট্রায়াল’ কার্যক্রমও চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
সোনারগাঁ নারায়ণগঞ্জের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা হওয়ায় এখানকার বিভিন্ন সড়ক ও জনবসতিপূর্ণ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা পুলিশের নিয়মিত দায়িত্বের অংশ। মাদক ও অন্যান্য অপরাধের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর আইনি প্রক্রিয়াও আদালতের মাধ্যমে এগিয়ে যাবে।
তবে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। আইন অনুযায়ী, আদালতে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত প্রত্যেক আসামিই নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার অধিকার রাখেন।










