,

নিখোঁজের ২৮ দিন পর মাটি খুঁড়ে কিশোরের মরদেহ উদ্ধার

ময়মনসিংহের ফুলপুরে নিখোঁজ হওয়ার ২৮ দিন পর রাশেদুল ইসলাম (১৭) নামে এক কিশোরের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) উপজেলার বওলা ইউনিয়নের চন্দ্রপুর গ্রামের ‘গারোর ভিটা’ এলাকা থেকে মাটি খুঁড়ে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

নিহত রাশেদুল ইসলাম উপজেলার কৃষ্ণমহেশপট্টি গ্রামের শাহজাহান মিয়ার ছেলে। সে ইটভাটায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করত। পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১০ আগস্ট সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর রাশেদুল আর বাড়িতে ফেরেনি। স্বজনেরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেও তার কোনো সন্ধান পাননি।

নিখোঁজের পরদিন রাশেদুলের ব্যবহৃত মুঠোফোন থেকে পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। এতে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়। পরে রাশেদুলের বাবা ফুলপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডির পর পুলিশ নিখোঁজ কিশোরের সন্ধানে তদন্ত শুরু করে।

পুলিশ জানায়, তদন্তের অংশ হিসেবে রাশেদুলের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা এবং মুক্তিপণ দাবির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য যাচাই করা হয়। একপর্যায়ে তদন্তের সূত্র ধরে নেত্রকোনার শ্যামগঞ্জের কোকাইল গ্রামের মো. জসিম মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাশেদুলের মরদেহ কোথায় রাখা হয়েছে, সে সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। পরে জসিম মিয়ার দেওয়া তথ্য অনুসারে ফুলপুর উপজেলার বওলা ইউনিয়নের চন্দ্রপুর গ্রামের ‘গারোর ভিটা’ এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে নির্দিষ্ট একটি স্থান শনাক্ত করে মাটি খোঁড়া হলে রাশেদুলের মরদেহ পাওয়া যায়।

দীর্ঘ ২৮ দিন মাটির নিচে থাকার কারণে মরদেহটি অর্ধগলিত অবস্থায় ছিল। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করে।

এ ঘটনায় জসিম মিয়া ছাড়াও একই গ্রামের মোজ্জাম্মেল হোসেন ও রফিক মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের গ্রেপ্তারের পর কিশোরটির নিখোঁজ হওয়া, মুক্তিপণ দাবি এবং তার মৃত্যুর পেছনের কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। তবে হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ বা ঘটনার পুরো প্রেক্ষাপট তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

ফুলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফিরোজ হোসেন বলেন, রাশেদুল নিখোঁজ হওয়ার পরদিন তার মুঠোফোন থেকে পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছিল। এ ঘটনায় তার বাবা থানায় জিডি করেন। পরে পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং তদন্তের একপর্যায়ে শ্যামগঞ্জ থেকে জসিম মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই রাশেদুলের মরদেহের সন্ধান পাওয়া যায়।

ওসি আরও বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে সোপর্দ করা হবে।

রাশেদুলের নিখোঁজ হওয়ার পর ২৮ দিন ধরে পরিবার তার সন্ধানের অপেক্ষায় ছিল। প্রথমে মুঠোফোনে মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় স্বজনদের মধ্যে তাকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত মাটির নিচ থেকে তার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সেই অপেক্ষার করুণ পরিণতি ঘটে।

এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে—কিশোরটিকে কেন বাড়ি থেকে ডেকে নেওয়া হয়েছিল, মুক্তিপণ দাবির উদ্দেশ্য কী ছিল এবং তার মৃত্যুর সঙ্গে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের প্রত্যেকের ভূমিকা কতটা ছিল। এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে পুলিশ। ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Tags :

মুরসালিন মাহমুদ তাইসিন | সাব-এডিটর । GLive24.com

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।