,

ঝিনাইদহে সারের দাবিতে সড়ক অবরোধ, কৃষকদের বিক্ষোভ

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় রাসায়নিক সারের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। শনিবার সকালে উপজেলার গাড়াগঞ্জ বাজারে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রায় এক ঘণ্টা আঞ্চলিক সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। এতে ওই সড়কে চলাচলকারী যাত্রী ও বিভিন্ন যানবাহনের চালকদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, চাষাবাদের প্রয়োজনীয় সার সংগ্রহ করতে তাঁরা গাড়াগঞ্জ পুরাতন বাজারের শুভ এন্টারপ্রাইজে যান। সেখানে ডিলারের পক্ষ থেকে তাঁদের সার দেওয়া হবে না বলে জানানো হয়। প্রয়োজনের সময় সার না পেয়ে কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। একপর্যায়ে তাঁরা গাড়াগঞ্জ-শৈলকুপা আঞ্চলিক সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ শুরু করেন।

সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে রাখায় অল্প সময়ের মধ্যেই যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দুই দিক থেকে আসা যানবাহন আটকে পড়ায় সড়কে জট তৈরি হয়। স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীরা আকস্মিক এই অবরোধের কারণে দুর্ভোগে পড়েন। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলা বিক্ষোভে কৃষকেরা দ্রুত সার সরবরাহের ব্যবস্থা করার দাবি জানান।

খবর পেয়ে উপজেলা কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তাঁরা কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন এবং সার সরবরাহের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেন। পরে কৃষকদের সার দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে থাকে। সার পাওয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত হওয়ার পর কৃষকেরা সড়ক থেকে গাছের গুঁড়ি সরিয়ে নেন এবং অবরোধ তুলে দেন। এরপর ধীরে ধীরে যান চলাচলও স্বাভাবিক হয়ে আসে।

কৃষকদের জন্য সময়মতো রাসায়নিক সার পাওয়া চাষাবাদের গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। ফসলের প্রয়োজন অনুযায়ী সার প্রয়োগ করতে না পারলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ কারণে স্থানীয় পর্যায়ে সরবরাহে কোনো ধরনের অনিয়ম বা ঘাটতির অভিযোগ দেখা দিলে তা দ্রুত সমাধান না হলে কৃষকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হতে পারে।

ঘটনাটি সম্পর্কে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, সার নিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। খবর পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে কৃষকদের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যার সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরে সার দেওয়ার ব্যবস্থা করা হলে কৃষকেরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন।

সড়ক অবরোধের কারণে সাময়িকভাবে জনদুর্ভোগ তৈরি হলেও প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে। কৃষকদের সার পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ায় বিক্ষোভও দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। তবে ভবিষ্যতে চাষের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সার সরবরাহ নিয়ে যাতে একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে জন্য স্থানীয় পর্যায়ে সরবরাহব্যবস্থা ও ডিলারদের কার্যক্রমে নজরদারি জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Tags :

সৌরভ বিশ্বাস | উপ-সম্পাদক । জিলাইভ বাংলা

https://bn.glive24.com/

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।