ভারতের পাঞ্জাবের লুধিয়ানায় নিজ বাড়ি থেকে জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ও গীতিকার বলজিৎ সিংয়ের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ৩৫ বছর বয়সী এই শিল্পীর মৃত্যু ঘিরে তৈরি হয়েছে রহস্য। বাড়ি থেকে কয়েক দিন ধরে দুর্গন্ধ বের হওয়ার পর প্রতিবেশীরা পুলিশকে খবর দিলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, লুধিয়ানার সুদহারপট্টি ধালিওয়াল গ্রামে নিজের বাড়িতে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় বলজিৎ সিংকে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে একটি বিছানার ওপর তাঁর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে। তখন মরদেহে পচন ধরেছিল। প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা, উদ্ধারের চার থেকে পাঁচ দিন আগেই তাঁর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট সময় ময়নাতদন্ত ও অন্যান্য তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, কয়েক দিন ধরে বলজিৎ সিংয়ের বাড়ির আশপাশে তীব্র দুর্গন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে দুর্গন্ধ আরও তীব্র হলে বিষয়টি নিয়ে তাদের সন্দেহ হয়। পরে তাঁরা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় বাড়ির দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করে শিল্পীর মরদেহ উদ্ধার করে।
ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া কিছু আলামতও তদন্তকারীদের নজরে এসেছে। মরদেহের কাছাকাছি শুকনো রক্তের দাগ পাওয়া গেছে। তবে সেই রক্ত কোথা থেকে এসেছে কিংবা শিল্পীর মৃত্যুর সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফলে আপাতত রক্তের দাগকে মৃত্যুর কারণের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করছে না পুলিশ।
মৃত্যুর কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বলজিৎ সিংয়ের বাড়ির আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীরা জানতে চাইছেন, মৃত্যুর আগের কয়েক দিনে তাঁর বাড়িতে কেউ এসেছিলেন কি না, আশপাশে কোনো সন্দেহজনক ব্যক্তির চলাচল ছিল কি না এবং শিল্পীর শেষ সময়ের গতিবিধি সম্পর্কে কোনো সূত্র পাওয়া যায় কি না।
পরিবারের পক্ষ থেকেও মৃত্যুর সম্ভাব্য একটি কারণের কথা বলা হয়েছে। বলজিৎ সিংয়ের বোন জানিয়েছেন, এর আগে তাঁর ভাইয়ের হৃদ্রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। তাঁর ধারণা, আবারও হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে বলজিৎ পড়ে গিয়ে আঘাত পেতে পারেন। সেই আঘাত থেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলেও তিনি মনে করছেন।
তবে পরিবারের এই ধারণা এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য নয়। মরদেহের পাশে শুকনো রক্তের দাগ পাওয়ার বিষয়টির সঙ্গে এ সম্ভাবনার কোনো যোগসূত্র আছে কি না, সেটিও তদন্তের অংশ। একই সঙ্গে অন্য কোনো কারণ বা পরিস্থিতি মৃত্যুর পেছনে ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মরদেহে পচন ধরায় মৃত্যুর সময় নির্ধারণ এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ শনাক্ত করা তদন্তের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এ ধরনের ঘটনায় ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন সাধারণত মৃত্যুর ধরন ও সম্ভাব্য কারণ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারে। সেই প্রতিবেদন পাওয়ার পরই বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।
পুলিশ এখন ঘটনাস্থলের আলামত, সিসিটিভি ফুটেজ এবং পরিবারের দেওয়া তথ্য মিলিয়ে দেখছে। বিশেষ করে মৃত্যুর আগে বলজিৎ সিং কারও সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন কি না বা তাঁর বাড়িতে কেউ প্রবেশ করেছিল কি না, তা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
জনপ্রিয় এই শিল্পীর আকস্মিক মৃত্যুতে তাঁর পরিচিতজন ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের পাশাপাশি নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। স্বাভাবিক মৃত্যু, দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনো কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে—এই প্রশ্নগুলোর উত্তর এখনো মেলেনি। ময়নাতদন্তের ফল এবং পুলিশের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বলজিৎ সিংয়ের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।










