,

অভিযানের নামে ৪০ ভরি স্বর্ণ ছিনতাইয়ের অভিযোগ কনস্টেবল জাকিরের বিরুদ্ধে

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশের এক কনস্টেবলের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে অভিযান চালিয়ে প্রায় কোটি টাকা মূল্যের ৪০ ভরি স্বর্ণ ছিনতাইয়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। আলোচিত এই ঘটনার পরই অভিযুক্ত কনস্টেবল দীর্ঘ এক মাসের ছুটি নিয়ে কর্মস্থল ছেড়ে নিজ বাড়িতে চলে গেছেন। এ নিয়ে স্থানীয় পুলিশ বিভাগে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও গুঞ্জন তৈরি হলেও এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
অনুসন্ধানে জানা যায়, অভিযুক্ত ওই পুলিশ সদস্যের নাম জাকির হোসেন। তার গ্রামের বাড়ি রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার দেবীপুর গ্রামে। অভিযোগ রয়েছে, গত ৮ আগস্ট বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার মরা পাগলা নদীর কালীনগর সেতুসংলগ্ন এলাকায় এই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে রাজশাহীর এক স্বর্ণ ব্যবসায়ী নিঝুম গণমাধ্যমকে জানান, তাদের পরিবার রাজশাহীতে জুয়েলারি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। সাধারণত বাজারে স্বর্ণের দাম কম থাকলে তা সংগ্রহ করে রাখা হয় এবং দাম বাড়লে বিভিন্ন স্থানে ক্রেতাদের কাছে সরবরাহ করা হয়। ঘটনার দিন বাইরে অর্ডার সরবরাহ করার উদ্দেশ্যেই স্বর্ণের ওই চালানটি নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। কিন্তু পূর্বপরিকল্পিতভাবে পুলিশ কনস্টেবল জাকির ও তার পরিবারের কিছু সদস্যের যোগসাজশে সেই স্বর্ণ ছিনতাই করা হয়। ব্যবসায়ীর দাবি, তার নিজের ভগ্নিপতি মোহাম্মদ আলী এবং ভাগনে নয়ন এই ছিনতাই চক্রের সঙ্গে জড়িত এবং কনস্টেবল জাকিরের সঙ্গে তাদের গোপন বোঝাপড়া ছিল। ঘটনার পর থেকেই লুট হওয়া স্বর্ণ উদ্ধারের জন্য বিভিন্ন মহলে যোগাযোগ করেও কোনো সুরাহা পাননি বলে জানান তিনি।
এদিকে অভিযুক্ত কনস্টেবল জাকির হোসেন ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছেন। তিনি স্বীকার করেন যে গত ৮ আগস্ট বিকেলে তিনি মরা পাগলা নদীর কালীনগর ব্রিজ এলাকায় উপস্থিত ছিলেন, তবে স্বর্ণ ছিনতাইয়ের মতো কোনো অপরাধের সঙ্গে তিনি জড়িত নন। ব্যবসায়ীর পক্ষ থেকে তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে দাবি তার। এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য স্বর্ণের বাহক ও ব্যবসায়ীর ভগ্নিপতি মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি ফোনকল কেটে দেন।
এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরামুল হোসাইন জানান, এ ধরনের কোনো অভিযোগ থানায় কেউ দায়ের করেনি এবং তিনি বিষয়টি সম্পর্কে সম্পূর্ণ অন্ধকারে আছেন।
অন্যদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এএনএম ওয়াসিম ফিরোজও একই সুর গেয়ে জানান যে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কিছু জানে না। তবে পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিশ্চিত করেছে যে ঘটনাটি নিয়ে পুলিশ মহলে অভ্যন্তরীণ আলোচনা চলছে। ঘটনার পরপরই কনস্টেবল জাকির আকস্মিক এক মাসের ছুটি মঞ্জুর করিয়ে কর্মস্থল ত্যাগ করে গ্রামের বাড়িতে চলে গেছেন। এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ না হওয়ায় পুলিশ তাৎক্ষণিক কোনো পদক্ষেপ নিতে পারছে না। তবে ভুক্তভোগী পক্ষ কিংবা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে বিষয়টি নিয়ে বিভাগীয় তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
Tags :

সৌরভ বিশ্বাস | উপ-সম্পাদক । জিলাইভ বাংলা

https://bn.glive24.com/

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।