নেত্রকোনার মদন উপজেলায় কালোবাজারে পাচারকালে দুটি হ্যান্ডট্রলি ভর্তি প্রায় একশ বস্তা সরকারি চাল জব্দ করেছে পুলিশ। দুস্থদের জন্য বরাদ্দকৃত এই চাল পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ট্রলির দুই চালককে আটক করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে উপজেলার মদন-তিয়শ্রী সড়কের রুদ্রশ্রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকা থেকে এই চাল উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক দিন ধরেই এলাকায় দুস্থ মানুষের মাঝে খোলা বাজারে বিক্রির (ওএমএস) সরকারি চাল বিতরণ করা হচ্ছিল। নিয়ম অনুযায়ী কার্ডধারীরা এই চাল পাওয়ার কথা থাকলেও অনেকে তা নিজেদের ব্যবহারের জন্য না রেখে কম দামে স্থানীয় ডিলার বা মধ্যস্বত্বভোগীদের কাছে বিক্রি করে দেন। এভাবেই একটি চক্র প্রান্তিক মানুষের কাছ থেকে চালগুলো কম মূল্যে কিনে সংগ্রহ করে।
শুক্রবার সকালে সংগৃহীত ওই চালগুলো দুটি হ্যান্ডট্রলিতে করে নেত্রকোনা সদর উপজেলার দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। পথিমধ্যে মদন-তিয়শ্রী সড়কে স্থানীয় জনতা হ্যান্ডট্রলি দুটির গতিবিধি সন্দেহজনক মনে করে তা আটক করেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে মদন থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে চালভর্তি ট্রলি দুটিসহ চালকদের হেফাজতে নেয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আটককৃত দুই চালকের নাম মামুন মিয়া ও আকার উল্লাহ। তাদের বাড়ি মদন উপজেলার দেওসহিলা গ্রামে। এর মধ্যে মামুনের বাবার নাম আবু কালাম এবং আকার উল্লাহর বাবার নাম আব্দুল হক।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে জানান, সরকারি এই চাল কোথা থেকে এবং কোন চক্রের মাধ্যমে একত্রিত করা হয়েছিল, তার নেপথ্য নায়কদের খুঁজে বের করা জরুরি। পাশাপাশি প্রান্তিক সুবিধাভোগীরা কেন নিয়মিত সরকারি চাল খোলা বাজারে বিক্রি করে দিচ্ছেন, সেই সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণগুলোও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাহউদ্দীন করিম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ আগে থেকেই সতর্ক অবস্থানে ছিল। চালবোঝাই হ্যান্ডট্রলিগুলো মদন সদরের দিকে যাওয়ার সময় রুদ্রশ্রী এলাকায় ব্যারিকেড দিয়ে আটক করা হয়। বর্তমানে জব্দকৃত চাল সঠিকভাবে মেপে পরিমাপ নির্ধারণের কাজ চলছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
এদিকে মদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাদির হোসেন শামীম জানান, সরকারি চাল জব্দের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর এ ঘটনায় থানায় নিয়মিত মামলা দায়েরের জন্য পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাচার চক্রের মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনতে প্রশাসনের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।










