শরীয়তপুর সদর উপজেলায় একটি ছয়তলা আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পাঁচজন আহত হয়েছেন। আগুনে হোটেলের নিচতলার পার্কিংয়ে থাকা ১২টি মোটরসাইকেল ও একটি ব্যক্তিগত গাড়ি সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। তবে ভবনের ভেতরে থাকা ১৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে শরীয়তপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে নুর হোটেল ইন্টারন্যাশনালে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাত দেড়টার দিকে হোটেলের নিচতলার পার্কিংয়ে থাকা একটি ব্যক্তিগত গাড়ি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে গাড়িটির একটি চাকায় বিস্ফোরণের মতো শব্দ হয়। কিছুক্ষণ পর গাড়ির ভেতরে থাকা সিলিন্ডার বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হলে আগুন দ্রুত পার্কিং এলাকা থেকে ভবনের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে।
আগুনের তীব্রতা দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় হোটেলের নিচতলা থেকে ধোঁয়া ও আগুন ওপরে উঠতে থাকে। ওই সময় হোটেলের ভেতরে ১৭ জন অবস্থান করছিলেন। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে তারা প্রাণ বাঁচাতে ভবনের ছাদে আশ্রয় নেন।
খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় ২০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি ছাদে আশ্রয় নেওয়া ১৭ জনকেও নিরাপদে নিচে নামিয়ে আনা হয়।
শরীয়তপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিদর্শক শংকর বিশ্বাস জানান, রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। সেখানে গিয়ে পার্কিং এলাকায় তীব্র আগুন দেখতে পান। আগুনের তাপ ও ধোঁয়ার কারণে শুরুতে ভবনের ওপরের অংশে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছিল। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে এনে ছাদে থাকা ১৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। তাদের মধ্যে পাঁচজন আহত ছিলেন। আহতদের শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক ত্রুটি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে আরও তদন্ত প্রয়োজন।
পালং মডেল থানার উপপরিদর্শক সুধাংশু সরকার বলেন, আগুন লাগার খবর পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয় করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা এবং ভবনের ওপরের অংশে আটকে থাকা ব্যক্তিদের উদ্ধারে কাজ করেন তারা।
প্রত্যক্ষদর্শী আলিম কাজি জানান, পার্কিংয়ে থাকা গাড়ি থেকে প্রথমে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে গাড়ির সিলিন্ডার বিস্ফোরণের পর আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ফোরণের শব্দে আশপাশের লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
অগ্নিকাণ্ডে হোটেলের পার্কিংয়ে থাকা ১২টি মোটরসাইকেল ও একটি ব্যক্তিগত গাড়ি সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। তবে ভবনের অন্যান্য অংশের ক্ষয়ক্ষতি এবং অগ্নিকাণ্ডে মোট আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে নির্ধারণ করা যায়নি।
ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণের পর ভবনের বিভিন্ন অংশ পর্যবেক্ষণ করেন। আগুনের সূত্রপাত, সিলিন্ডার বিস্ফোরণের কারণ এবং ভবনের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা যথাযথ ছিল কি না—এসব বিষয় পরবর্তী তদন্তে স্পষ্ট হবে। আহত পাঁচজনের শারীরিক অবস্থার বিস্তারিত তথ্যও তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।









