ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) ব্যাট হাতে নতুন ইতিহাস গড়েছেন শ্রীলঙ্কার অলরাউন্ডার দাসুন শানাকা। সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস প্যাট্রিয়টসের হয়ে খেলতে নেমে সেন্ট লুসিয়া কিংসের বিপক্ষে মাত্র ৩৯ বলে সেঞ্চুরি করে টুর্নামেন্টটির ইতিহাসে দ্রুততম শতকের রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন তিনি।
বেসেটেরে অনুষ্ঠিত লিগ পর্বের ম্যাচে শানাকার ব্যাটিংয়ে রানের ঝড় ওঠে। শেষ পর্যন্ত তিনি ৪৩ বলে ১২১ রানে অপরাজিত থাকেন। তার ইনিংসে ছিল আটটি চার ও ১২টি ছক্কা। অর্থাৎ সেঞ্চুরির পরও থামেননি তিনি; শেষ পর্যন্ত দলের রানকে বড় সংগ্রহে নিয়ে যেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
এর আগে সিপিএলে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড যৌথভাবে ছিল আন্দ্রে রাসেল ও টিম সাইফার্টের দখলে। দুজনই ৪০ বলে শতকের দেখা পেয়েছিলেন। শানাকা এক বল কম খেলে সেই রেকর্ড ভেঙে নতুন কীর্তি গড়েন।
শানাকার বিধ্বংসী ইনিংসের সঙ্গে আন্দ্রে ফ্লেচারের ৩৮ বলে ৬৪ রানের ইনিংসও সেন্ট কিটসের বড় সংগ্রহ গড়ার ভিত তৈরি করে। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ২৩৫ রান সংগ্রহ করে প্যাট্রিয়টস। জবাবে সেন্ট লুসিয়া কিংসের ব্যাটিং লাইনআপ খুব বেশি সময় টিকতে পারেনি। মাত্র ১৩ দশমিক ৫ ওভারে ৯৮ রানে অলআউট হয়ে যায় তারা।
ফলে ম্যাচে বড় ব্যবধানে জয় পায় সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস প্যাট্রিয়টস। তবে দলের জয়ের চেয়েও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসে শানাকার রেকর্ড গড়া ইনিংস।
ম্যাচ শেষে নিজের ব্যাটিং পরিকল্পনা নিয়ে শানাকা জানান, ইনিংসের শুরুতে তিনি পরিস্থিতি বুঝে খেলার দিকে বেশি মনোযোগ দিয়েছিলেন। প্রথম দিকে বলের মান, মাঠের বিন্যাস এবং বোলারদের কাছ থেকে পাওয়া সুযোগ বিবেচনা করেই ব্যাটিং করেছেন। উইকেট ভালো বুঝতে পারার পর নিজের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে গতি বাড়ান তিনি।
শানাকার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথম ৩০ বল পর্যন্ত তিনি ঝুঁকি কম রেখে খেলতে চেয়েছিলেন। এরপর নিজের পছন্দের জায়গায় বল পেলেই আক্রমণে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনাই বড় সাফল্য এনে দেয়।
এই ম্যাচে শানাকার ব্যাটিংয়ের অবস্থানও ছিল গুরুত্বপূর্ণ। আগের ম্যাচে অ্যান্টিগা অ্যান্ড বারবুডা ফ্যালকনসের বিপক্ষে সাত নম্বরে ব্যাট করতে নেমে তিনি অপরাজিত ৪৯ রান করেছিলেন। এবার তাকে তিন নম্বরে তুলে আনা হয়। প্রধান কোচ মালোনান রঙ্গরাজন ও অধিনায়ক জেসন হোল্ডার মিলে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে জানান শানাকা।
৩৪ বছর বয়সী শানাকা বলেন, ওপরের দিকে ব্যাট করার সুযোগ পেয়ে তিনি খুশি ছিলেন। তার সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স এবং ব্যাটিং সামর্থ্য বিবেচনা করেই তাকে বেশি সময় ব্যাট করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।
অধিনায়ক জেসন হোল্ডারও শানাকার পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেছেন। তার মতে, সাম্প্রতিক সময়ে শানাকা ভালো ছন্দে থাকায় দল তাকে সর্বোচ্চভাবে কাজে লাগাতে চেয়েছিল। সুযোগ পেয়ে শানাকা শুরুতে ধৈর্য ধরে ইনিংস গড়েছেন এবং পরে দ্রুত রান তোলার পথে গেছেন।
হোল্ডারের বক্তব্যে শানাকার ব্যাটিংয়ের দুটি দিকই স্পষ্ট হয়েছে—শুরুতে পরিস্থিতি অনুযায়ী সংযত থাকা এবং পরে সুযোগ বুঝে আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠা। সিপিএলের দ্রুততম সেঞ্চুরি সেই পরিকল্পনারই সফল বাস্তবায়ন।
৩৯ বলে সেঞ্চুরি করে শানাকা শুধু নিজের নামই রেকর্ড বইয়ে তুললেন না, সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস প্যাট্রিয়টসকেও ম্যাচে বিশাল সংগ্রহ এনে দিলেন। ৪৩ বলে ১২১ রানের অপরাজিত ইনিংসটি তার টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের অন্যতম আলোচিত পারফরম্যান্স হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।










