,

খেলোয়াড় বিক্রি করে ইতিহাসের সর্বোচ্চ আয় চেলসির

২০২৬ সালের গ্রীষ্মকালীন দলবদলে খেলোয়াড় বিক্রি করে নতুন ইতিহাস গড়েছে চেলসি। ইংলিশ ক্লাবটি এই দলবদল মৌসুমে খেলোয়াড় ছাড়ার মাধ্যমে মোট ৪৪৮ মিলিয়ন ইউরো আয় করেছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬ হাজার ৩০০ কোটি টাকার বেশি। ইউরোপীয় ফুটবলে এক মৌসুমের দলবদলে খেলোয়াড় বিক্রি থেকে এর আগে কোনো ক্লাব এত বিপুল অর্থ আয় করতে পারেনি বলে ট্রান্সফারমার্কেটের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

চেলসির এই রেকর্ড শুধু বড় অঙ্কের অর্থ আয়ের ঘটনা নয়; ক্লাবটির সাম্প্রতিক দলবদল কৌশলেরও প্রতিফলন। আর্থিক বিধিনিষেধের মধ্যে দল পরিচালনা, স্কোয়াডের আকার নিয়ন্ত্রণ এবং আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য বজায় রাখতে খেলোয়াড় বিক্রির ওপর জোর দিয়েছিল লন্ডনের ক্লাবটি। সেই পরিকল্পনাই শেষ পর্যন্ত এনে দিয়েছে অভূতপূর্ব আর্থিক সাফল্য।

এই বিশাল আয়ের সবচেয়ে বড় অবদান এনজো ফার্নান্দেজের দলবদল থেকে এসেছে। আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী এই মিডফিল্ডারকে দলবদলের শেষ দিনে ১৪৫ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে ম্যানচেস্টার সিটি দলে নিয়েছে। এই অঙ্ক প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দলবদল ফির যৌথ রেকর্ডও তৈরি করেছে।

তবে চেলসির রেকর্ড গড়ার পেছনে কেবল একজন খেলোয়াড়ের বিক্রয়মূল্য কাজ করেনি। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও আলোচিত খেলোয়াড়কে ছেড়ে দিয়ে ক্লাবটি বিপুল অর্থ সংগ্রহ করেছে। আন্দ্রে সান্তোসের দলবদল থেকে এসেছে ৫৬.৩ মিলিয়ন ইউরো। নিকোলাস জ্যাকসনকে বিক্রি করে আয় হয়েছে ৫৫.৫ মিলিয়ন ইউরো। মার্ক কুকুরেইয়ার দলবদল থেকেও এসেছে ৫৫ মিলিয়ন ইউরো।

এর বাইরে লিয়াম ডেলাপের জন্য চেলসি পেয়েছে ৫২ মিলিয়ন ইউরো। ট্রেভো চালোবাহর দলবদল থেকে এসেছে ৩০ মিলিয়ন ইউরো। টাইরিক জর্জ ২১ মিলিয়ন ইউরো, মার্ক গিয়েহি ১৫ মিলিয়ন ইউরো এবং তোসিন আদারাবিওয়ো ১১.৭ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে ক্লাব ছেড়েছেন।

খেলোয়াড় বিক্রির এই ধারাবাহিকতা চেলসির স্কোয়াড ব্যবস্থাপনাতেও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বড় অঙ্কের অর্থে খেলোয়াড় কেনার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী খেলোয়াড় বিক্রি করে দলবদলের ব্যয়ের চাপ সামলানোর চেষ্টা করছে ক্লাবটি। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য খেলোয়াড় সম্পদের মূল্য কাজে লাগানোও এই কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।

এবারের দলবদলে চেলসির সাফল্যের আরেকটি দিক হলো, একাধিক খেলোয়াড়কে তুলনামূলক উচ্চমূল্যে বিক্রি করতে পারা। একটি বড় দলবদলের বদলে বিভিন্ন খেলোয়াড়ের বিক্রয়মূল্য মিলিয়েই ৪৪৮ মিলিয়ন ইউরোর রেকর্ড গড়ে উঠেছে। ফলে ক্লাবটির আয় শুধু একজন তারকার ওপর নির্ভরশীল ছিল না।

রেকর্ড আয়ের পাশাপাশি এত সংখ্যক গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ের বিদায় চেলসির সামনে স্কোয়াড পুনর্গঠনের চ্যালেঞ্জও তৈরি করেছে। বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থ ভবিষ্যৎ দলবদল, নতুন খেলোয়াড় সংগ্রহ এবং ক্লাবের আর্থিক কাঠামো আরও শক্তিশালী করতে কতটা কার্যকর হবে, সেটিই এখন নজরের বিষয়।

সব মিলিয়ে ২০২৬ সালের গ্রীষ্মকালীন দলবদল চেলসির জন্য ইউরোপীয় ফুটবলের আর্থিক ইতিহাসে একটি ব্যতিক্রমী অধ্যায় হয়ে উঠেছে। খেলোয়াড় বিক্রি থেকে ৪৪৮ মিলিয়ন ইউরোর আয় শুধু ক্লাবটির নিজস্ব রেকর্ড নয়, ইউরোপের এক মৌসুমের দলবদলে খেলোয়াড় বিক্রি থেকে সর্বোচ্চ আয়ের নতুন নজিরও তৈরি করেছে।

Tags :

সৌরভ বিশ্বাস | উপ-সম্পাদক । জিলাইভ বাংলা

https://bn.glive24.com/

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।