ক্ষমতা পুনরুদ্ধারের কোনো অভিপ্রায় নেই, বরং দেশের বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর তাগিদ থেকেই চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে স্বদেশে ফেরার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভারতের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি এই রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করেন। এটিই ভারতীয় গণমাধ্যমকে দেওয়া তাঁর প্রথম টেলিফোন সাক্ষাৎকার, যা বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, নিজস্ব মাতৃভূমিতে ফিরে আসার জন্য কোনো নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতির অপেক্ষা তিনি করেন না এবং যথাসময়ে তাঁর প্রত্যাবর্তনের সুনির্দিষ্ট তারিখ, সময় ও প্রবেশপথ দেশবাসীকে জানিয়ে দেওয়া হবে।
সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন এবং বিএনপি সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, গত বছরের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে দেশজুড়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর বমিকা, দমনপীড়ন, নির্বিচারে গ্রেপ্তার এবং বাড়িঘরে হামলার ঘটনা ঘটেই চলেছে। তাঁর নিজের বিরুদ্ধে ছয়শটিরও বেশি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন মামলা দায়ের করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের বিচারব্যবস্থাকে সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক প্রতিশোধ গ্রহণের হাতিয়ারে পরিণত করা হয়েছে। ২০০৪ সালের একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার ভয়াবহ স্মৃতিচারণ করে তিনি জানান, অতীতেও অনেক ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে তিনি রাজনীতিতে টিকে ছিলেন এবং বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি ব্যক্তিগতভাবে কোনো ভীতি বা শঙ্কা অনুভব করেন না।
ভারত সরকারের সঙ্গে কোনো ধরনের রাজনৈতিক সমঝোতার কথা অস্বীকার করে শেখ হাসিনা বলেন, দেশে ফেরার এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে তাঁর নিজস্ব এবং এটি তাঁদের দলীয় অভ্যন্তরীণ আলোচনার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে। এ সময় তিনি তাঁর শাসনামলের অর্থনৈতিক অগ্রগতির বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরে দাবি করেন, তাঁর সরকারের সময় দেশের অর্থনীতি ও মাথাপিছু আয় উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছিল। বর্তমান সরকারের জমানায় অর্থনৈতিক মন্দা, মূল্যস্ফীতি এবং শিল্প খাতে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থানে উগ্রবাদী নেটওয়ার্কের তৎপরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করেন যে, একটি গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ ধারা ব্যাহত হলে তা কেবল বাংলাদেশের অভ্যন্তরেই নয়, বরং সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্যই মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।










